পারিবারিক বিরোধে সরকারী চাকুরীজীবী স্বজন কেন টার্গেট..?

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সম্প্রতি ভোলায় পারিবারিক বা জমিজমা নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কোন বিরোধ থাকলেই টার্গেট করা হয় সরকারী চাকুরীজীবী স্বজনদের। নুন থেকে চূর্ণ খসলেই টার্গেট করা হয় সরকারী চাকুরীজীবীকে। দুর-দূরান্তে চাকুরীর সুবাধে থাকলেও বছর শেষ পরিবারের টানে ছুটিতে আসলেই ষড়যন্ত্রে নামেন প্রতিপক্ষরা। সরকারি চাকুরীজীবীকে দূর্বল করতে নানান ষড়যন্ত্র করে ইচ্ছেকৃত ঝামেলা তৈরি করে বিপদগ্রস্ত করেন প্রতিপক্ষরা। তেমনি এক ষড়যন্ত্রের জালে পড়েছেন ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ৯নং ওয়ার্ডের কালাম মেম্বার পোল এলাকার বিজিবি সদস্য মোঃ আজগর হোসেন।
মধ্যবিত্ত পরিবারের বেড়ে উঠা আজগর শিক্ষাজীবনে মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। যোগ্যতায় পেয়েছেন বর্ডারগার্ড (বিজিবি) সদস্য। এটাই কাল হলো আজগর হোসেনের। একই বংশের সুজন মল্লিকগংদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে আজগরের পরিবারের। সুজন মল্লিকদের সাথে আজগরের পরিবারের বিরোধ থাকলেও এতে কখনও হস্তক্ষেপ করেননি আজগর। তবুও প্রতিপক্ষের টার্গেট আজগর, সরকারী চাকুরী বলে কথা।
জানা যায়, আজগরের প্রতিপক্ষ সুজন মল্লিকগংরা দীর্ঘদিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আসছে। আজগর ছুটিতে আসলেই একটি নাটক তৈরি করে আজগর কে বিপদগ্রস্ত করাই ছিল সুজন মল্লিকদের উদ্দেশ্য। অবশেষে সুজনরা সফল হলেন আর ছুটিতে এসে নিজ জন্মভূমির মাটি ও মানুষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মামলার আসামী হলেন সীমান্ত রক্ষার অত্যন্ত প্রহরী আজগর হোসেন। প্রতিপক্ষের প্রতিহিংসাপরায়ণে মেধাবী এ আজগর আজগর আজ পুলিশের এজাহার ভুক্ত মামলার বিবাদী।
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, আজগর হোসেন ছুটিতে বাড়ীতে আসেন। এই সুযোগটা দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা সুজন মল্লিকরা কাজে লাগান। আজগর বাড়ীতে এসে বেড়াতে যান এক নিকটবর্তী আত্মীয়ের বাড়ীতে কিন্তু সুজন মল্লিকরা জানতো আজগর বাড়ীতে আসেন। সুজনরা ফাঁদ পেতে ভাড়াটিয়া লোকজন এনে গত ১২ই আগস্ট বিকালে হঠাৎ হামলা চালান আজগরের বসতঘরে। এতে আজগরের স্বজন ও সুজনের পক্ষের সাথে ব্যাপক মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আজগরকে হত্যার উদ্দেশ্য দা নিয়ে আসা নারীর দা-ই তার মাথায় আঘাত লাগে। আজগরের ভাইয়ের স্ত্রীকে আঘাত করতে গেলে তিনি পাল্টা প্রতিহত করলে বারি খেয়ে ওই নারীর মাথায় আঘাত লাগে। এ ঘটনায় আজগর সেখানে উপস্থিত না থাকলে ও আজগর ভাই ও সুজনদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হয়। উভয় পক্ষের আহত হয়েছেন।
সুজনদের টার্গেট আজগর, সেই লক্ষ্য তারা আজগর কে প্রধান আসামী করে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কমকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত চলছে। অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে আজগরদের পক্ষেও হালিমা বেগম নামের এক নারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন যার তদন্ত করছেন এসআই তাজীব ইসলাম।
আজগরের বোন মরিয়ম জানান, আমার ভাই ঘটনাস্থলে ছিলই না, কিন্তু সুজনদের টার্গেট তাকে আসামী করলে যেহেতু সে সরকারী চাকুরী করে তার সমস্যা হবে তাই পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আজগর ছুটিতে আসছে শুনে তারা এ নাটক সাজিয়েছে।
এদিকে নিরপরাধ আজগরের নামে মামলা করায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের সরকারী চাকুরী সোনার হরিণ। আর সেখানে সেই চাকুরীকে খেয়ে ফেলতে সুজনরা যেসব চক্রান্ত করে। প্রশাসন সুজনদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করলে বের হয়ে আসবে তাদের নাটকের এ স্কিম।
