ভোলার আলীনগরে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চান ভুক্তভোগী পরিবার
তজুমদ্দিনে বাকপ্রতিবন্ধী কবির হত্যাকান্ড
চিরকুট দিয়ে হুমকি : বোবাকে খাইছি, এবার বোবার পোলারে খামু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলার তজুমদ্দিনে বাকপ্রতিবন্ধী স্বামীকে হত্যার পর স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে চিরকুট পাঠিয়েছেন হত্যাকারীরা। চিরকুটে লেখা, ‘বোবাকে খাইছি এবার বোবার পোলারে খামু’। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছেন। এ ছাড়া মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গড়িমসি করছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সম্ভুপুর ইউনিয়নের লামছি গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী কবির হোসেন গত ২৯ জুলাই বিকালে সম্ভুপুর বাংলাবাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার তিন দিন পর, ১ আগস্ট, বাড়ির পাশের পুকুরে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ ভেসে ওঠে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহতের ভাই তজুমদ্দিন থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। ঘটনার ১১ দিন পার হলেও রহস্যের জট না খোলায় গত শুক্রবার বিকেলে বাংলাবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
এ সময় কবিরের স্ত্রী সুমা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে তার চাচা মো. খালেক ও রতন এবং চাচাতো ভাই রিয়াজ ও রাসেলের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ ছিল। আমার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার এক দিন আগেও বাজার থেকে ডেকে নিয়ে তারা ছুরি ও দা দেখিয়ে জমি কীভাবে আমরা ভোগ করি তা দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন। এরপর দিন আমার স্বামী নিখোঁজ হন। আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়। তারপরও তারা থামেননি। চিরকুট পাঠিয়ে বলছে ‘বোবাকে খাইছি এবার বোবার পোলারে খামু।’ আমার স্বামীকে হত্যার পর পুকুরের মাছগুলো বিষ দিয়ে মেরে ফেলছে। হাঁস-মুরগি চুরি হয়েছে। আমি এবং আমার সন্তানরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্বামী কোনো রাজনীতি করত না, কারও সঙ্গে ঝামেলা ছিল না, এলাকায় সবার সঙ্গে হাসিখুশিভাবে চলাফেরা করত। শুধু ওই জমির জন্য তারা আমাদের সর্বনাশ করল।
নিহত কবিরের ছোট বোন সুরমা বেগম বলেন, আমার চাচাতো ভাইরাই আমার বোবা ভাইডারে জমির লইগা মাইরা ফালাইছে। আমরা আমার ভাইর খুনের বিচার চাই। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবু বক্কর মিয়া বলেন, ওর মতো নিরীহ মানুষকে যদি এমনভাবে হত্যা করা হয়, তাহলে আমরা কেউই নিরাপদ নই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ। এ কারণেই তদন্তে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। এদিকে অভিযুক্ত মো. খালেক, মো. রতন, রিয়াজ ও রাসেলের বাড়িতে গেলে তাদের ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মোবাইলে কল দিলে সেগুলোও বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তজুমউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব প্রমাণ সংগ্রহ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হবে।
