সর্বশেষঃ

দৌলতখানে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে প্রতারণা, উল্টো মামলা দেয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় নারীর উপর হামলা ও মোকাম দৌলতখানের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছিনতাই ও লুটের মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক (৩৪) পিতা- মোঃ মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সি.আর কেস নং-১৪৫/২০২৫ (দৌঃ)।
এ বিষয় মামলার প্রধান আসামি করা মোঃ আনোয়ার জানান, আমি বাংলাবাজারে দোকান করি হৈচৈ শুনে ঘটনাস্থলে বাজার কমিটির সহ সভাপতি সাইফুল তালুকদারের সাথে গিয়ে শুনি এক মহিলা আবু বক্কর সিদ্দিকের দোকানে ঢুকে পাওয়া টাকা চাচ্ছে। মহিলার স্বামী নাকি দোকানদার থেকে ২২ লাখ টাকা পাবে। পরে পাড়ির পুলিশ এসে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। ১ মাস পর আজ শুনি আমি নাকি তার দোকান থেকে ২০ টি শাড়ি চুরি করছি,তাই মামলা দিছে। এটা রীতিমতো হাস্যকর ছাড়া কিছু নয়।
মামলার বিষয়ে মামলার ২ নং আসামি কর রিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী-মোঃ কামাল হোসেন, আমার স্বামী বিদেশে থাকাকালীন সময় গত ২০২২ সালে ব্যবসার কাজের জন্য নগদ ৪১,০০,০০০/- (একচল্লিশ লক্ষ) টাকা স্টাম্পমূলে দেয়। আমার স্বামীর নিকট হইতে টাকা নেওয়ার পর আবুবকর সিদ্দিক আমাদেরকে ব্যবসার কাজে না রাখিয়া বিভিন্ন ভাবে ঘুরাইতে থাকে। আমি বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের অবগত করিলে তারা বিষয়টি একাধিকবার মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সিদ্দিক তাহাদের কোন কথায় কর্নপাত না করে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শণ করে আসতেছে। ৩ জুন ২০২৫ মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় আমি সহ আরো ৩ জন সিদ্দিকের নিকট আমাদের পাওনা টাকা চাইতে গেলে সে আমাকে দেখা মাত্রই গালমন্দ করতে থাকে। তখন মোঃ আবুবকর সিদ্দিক (৩৮), মোঃ মাফুজুল হক (২৫), পিত্য-মফিজুল হক খান, মোঃ মফিজুল হক খান (৬০), পিতা-মৃত আব্দুল হাশিম খান,উত্তর দিঘলদী ০৫নং ওয়ার্ড, থানা-ভোলা সদর, জেলা-ভোলা, মোঃ অলিউল্লাহ (২৫), পিতা-মোঃ আব্দুল খালেক,জয়নগর ০৮নং ওয়ার্ড, মোঃ সনজিদ (২৫), পিতা-অজ্ঞাত, পশ্চিম জয়নগর, থানা-দৌলতখান,মোঃ এনামুল হক (২০), পিতা-অজ্ঞাত, দক্ষিন দিঘলদী।
তারা বে-আইনী ভাবে দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া হাতে লোহার রড ও এসএস পাইপ সহ আমাদেরকে এলোপাথারী মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে। তখন আমরা ডাক চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসে সকলের সামনে তারা আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। পরে বাংলাবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। এবং সিদ্দিক কে নিয়ে আটক রাখে পরে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জিল্লুর রহমান উভয় পক্ষ এক করে সমজতা করে দেন এবং ঈদের ১০ দিন পর আমাদের পাওনা ২২ লাখ টাকা দিবে বলে সিদ্ধান্ত করেন। কিন্তু ২২ লাখ টাকা না দিয়ে ৫ লাখ টাকা দেন সিদ্দিক। বাকি টাকা কিস্তিতে দিবে বলে এবং আমাদের নামে মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক বাদি হয়ে একটি হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা করেন আমি এর তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
মামলায় আবুবকর সিদ্দিক বাদি হয়ে, মোঃ আনোয়ার (৩৫) পিতা- মৃত আবুল কালাম, রিমা বেগম (৩৫) স্বামী- মোঃ কামাল হোসেন, মোসাম্মৎ ছিমিকা (২৫) স্বামী- মোঃ আলাউদ্দিন, বিবি হাওয়া (৫০) স্বামী- সিরাজ সহ রেহেনা বেগম (২৫) পিতা- মোঃ সেলিম মোট ৫ জন কে আসামি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ৩ জুন ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজার মসজিদ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রিমা বেগম বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সময় বাংলাবাজার ফাঁড়িতে ফোন দিলে সেখান থেকে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। রিমাসহ কয়েকজন দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে সিদ্দিককে আটকিয়ে থানায় নিয়ে যায়, উভয় মিমাংসা হলে আবার ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনায় মার্কেট কমিটির সহ-সভাপতি সাইফুল তালুকদার জানান ঘটনা শুনে আমি এসেছি বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। আবার সিদ্দিক যে মামলা করেন তা তার ভুল বুজাবুজি। সে দিল লুট কিংবা টাকা নেওয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে মামলার বাদি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তাদের সাথে মিমাংসার আগে মামলা করেছি কোন সমন জারি করা হয় নি আমি মামলা তুলার জন্য আবেদন করবো। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, থানায় অভিযোগ পেয়েছি। নতুন করে কোর্টে মামলা হলে তদন্ত আসলে দেখা যাবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।