জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-১১

[ ড. টি. এন. রশীদ ]

(গত পর্বের পর) : সেদিন সন্ধ্যায় আমি তাঁর বাসায় গিয়েছিলাম। তার পরদিন ভোরেই শুনি এ ঘটনা। আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম খবরটা শুনে। আমাদের বাসার কেউ আওয়ামী লীগ না করলেও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সংবাদে সবাই আঘাত পেল। এমনকি কয়েকদিন বাসায় রান্নাবান্নাও বন্ধ ছিল। তখন আমি বুঝলাম অনেকে রাজনীতি পছন্দ না করলেও বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা এ দেশের মানুষের কাছে ছিল। কারণ তিনি ছিলেন এক অদ্বিতীয় নেতা। তাঁর মত নেতা এ দেশে হয়নি আর হবেও না।
কত কষ্টের কত ত্যাগের আমাদের এই স্বাধীনতা, কত স্বপ্ন ছিল, আমরা আমাদের দেশকে সোনার বাংলা করে গড়ে তুলব। কিন্তু আমরা কি তা সত্যিই পেরেছি। আমি ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সবগুলো মুহূর্তই প্রত্যক্ষ করেছি। আমি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু এই গর্ব আর গর্ব থাকে না। যখন দেখি দেশদ্রোহী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সহ্য করতে পারি না যখন শুনি বঙ্গবন্ধুর খুনিরা সগৌরবে দেশে বিদেশে জীবন কাটাচ্ছে। তখন নিজেই ভিতরে ভিতরে ক্ষোভে রাগ ধরে রাখতে পারি না। কি লাভ হলো বঙ্গবন্ধুর জীবন দিয়ে। এ দেশে তো এখন আর শাস্তি-স্বাধীনভাবে বাস করার সুযোগ নেই। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা অসহায়ভাবে পথ্যহীন হয়ে মরে আর দেশদ্রোহীরা থাকে রাজার হালে। এই কি আমাদের স্বপ্নের বাংলা। প্রশ্নগুলো যেন দেয়ালে বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে। কার কাছে এ প্রশ্নের উত্তরের ন্যায় বিচারের আশা করা যায়। কে দেবে এর জবাব?
আজ আমরা একুশে ফেব্রুয়ারীতে বুকে কাল ব্যাজ লাগাই, আর পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে যেয়ে পান্তা খাই। কিন্তু সেই একদিনই কয়েকজন মানুষ দেখা যায়। তারা মনে প্রাণে সত্যিই বাঙ্গালী? শুধু একদিনের বাঙ্গালী সেজে তো বাঙ্গালীর সত্ত্বাকেই অপমান করা হচ্ছে। আজকাল তো অনেকেই বাংলায় কথা বলতেও অসম্মান বোধ করে। আর যারা আছে তাদের মুখে বাঙ্গালীপণা আর ভিতরে পাশ্চাত্যের প্রভাব। ছেলে মেয়েদেরকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানোকেই উপযোগী মনে করে। এমনকি ২১শে ফেব্রুয়ারী আর ৭১-এর মুক্তি যুদ্ধ ও তাদের কাছে বিশেষ অর্থবহ নয়। এর ব্যতিক্রম ও রয়েছে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি মানুষ বাঙ্গালী সত্ত্বাকে মনে প্রাণে মেনে চলুক। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে আর লুকোচুরি না করে। যে দিন এদেশের প্রতিটি নাগরিকের মনে দেশপ্রেম সত্যিকার ভাবে জেগে উঠবে সে দিন থেকে আমরা আমাদের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।