সর্বশেষঃ

ভোলার ভেদুরিয়ায় দড়ির ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে শ্বাশুরি-সমন্ধিকে মারধরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলায় ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে শ্বাশুরি ও সমন্ধিকে আমির হোসেনের নেতৃত্বে আরো ৭/৮ জন মিলে এ হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। তাদের হামলায় শ্বাশুরি মোসাঃ তাসনুর (৫০) ও সমন্ধিকে মো: আনোয়ার (৩৫) গুরুত্বর আহত হয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধী আছেন। অভিযুক্ত আমির হোসেন ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আঃ রাজ্জাকের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চররমেশের সমিতিরহাট এলাকার মজু চৌধুরীর ছেলে আনোয়ারের সাথে তার ভগ্নিপতি আমির হোসেনের সাথে হোগলা পাতা (দড়ি)’র ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিশ মিমাংশা হয়। তাতে আনোয়ারের কাছ থেকে অভিযুক্ত আমির হোসেনকে ১২ হাজার টাকা পাওনা হয়। ওই টাকা দেয়ার কথা থাকলেও সময় ক্ষেপন করতে থাকে আনোয়ার। দেই-দিচ্ছি বলে আমির হোসেনকে ঘুরাতে থাকে। তাই পাওনা টাকা চাইতে সোমবার তাদের বাড়ীতে গেলে আমির হোসেন ও আনোয়ারের মধ্যে কথা কাটা-কাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতা-হাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে শ্বাশুরি তাসনুর এগিয়ে আসলে তার সাথে হাত-হাতির ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হন, এবং তার সাথে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আমির হোসেন স্থানীয় বাজারের দিকে চলে গেলে আনোয়ার হোসেনও তার পিছনে পিছনে বাজারে যায়। সেখানেও আমির হোসেন ও আনোয়ারের মধ্যে পুনরায় তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ফের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আমির হোসেনের নেতৃত্বে আঃ রাজ্জাক (৫০), মোঃ জাহিদ (২৫), মোঃ রিয়াজ (২৫), মোঃ আমজাদ (৩০), মোসাঃ হোসনেয়ারা (৩২) ও মোঃ শামীমসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন একত্রিত হয়ে আনোয়ারকে বেধম মারধর করে। এ সময় সারাদিনের হোগলা পাতার (দড়ি) বিক্রির প্রায় ৫০ হাজার টাকা আনোয়ারের সাথে ছিল। ওই টাকা আমির হোসেন ও তার লোকজন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এমন অভিযোগ তুলেন আনোয়ারের পরিবার। এ ছাড়া বাড়ীতে হাতা-হাতির সময় আমির হোসেনের লোকজন আনোয়ারদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয় ভাংচুর করেছে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তীতের আহত আনোয়ার ও তাসনুরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত তাসনুর জানান, দড়ির ব্যবসা নিয়ে তার ছেলে আনোয়ারের সাথে জামাই আমির হোসেনের দ্বন্দ্ব চলছে। আমির হোসেন তার ছেলের কাছ থেকে কিছু টাকা পাওনা হয়। সেই টাকা চাইতে এসে আমির হোসেন আনোয়ারকে বেধম মারধর করে। আমি এগিয়ে আসলে আমাকেও মারধর করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি।
আহত আনোয়ার হোসেন বলেন, দড়ির ব্যবসা নিয়ে ভগ্নিপতি আমির হোসেনের সাথে ঝামেলা চলছিল। তিনি আমার কাছ থেকে কিছু টাকা পান ঠিক আছে। আমি দিয়ে দিব বলছি, কিন্তু তিনি তা মানতে নারাজ। টাকা নেয়ার জন্য তিনি পরিকল্পিতভাবে লোকজন নিয়ে এসে আমার উপর এবং আমার মা-কে বেধরম মারধর করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠ বিচার চাই। এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ভোলা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আমির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার সমন্ধি আনোয়ারের সাথে হোগলা পাতা (দড়ি)’র ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। তার কাছ থেকে আমি টাকা পাই। ওই টাকা না দিয়ে সময় ক্ষেপন করছে। সোমবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে উভয়য়ের মধ্যে কথা কাটা-কাটি হয়। আমি কাউকে কোন মরধর করিনি।
ঘটনার বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শ্বশুর মজু চৌধুরী। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভোলা সদর মডেল থানার এএসআই নাজির ঘটনাস্থাল ও আহতদের দেখতে ভোলা সদর হাসপাতালে যান। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।