সর্বশেষঃ

বিরোধী জমিতে থাকা গোয়াল ঘর উচ্ছেদ করে ধানের চারা রোপন

জমি-জমা বিরোধ নিয়ে ভোলার ইলিশায় মারধর-লুটপাট ॥ নারীসহ আহত-৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জমি-জমা বিরোধের জেরে ভোলার ইলিশায় মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ আগষ্ট সকালের দিকে ইলিশা গুপ্তমুন্সি ৯নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। তারা ভোলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধী রয়েছে। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শামিম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলা পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গুপ্তমুন্সি এলাকার বাসিন্দা মৃত আনোয়ার হোসেন এর ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম গং দের সাথে একই বাড়ীর মোঃ শাহজাহান মাঝি গংদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধীয় জমি নিয়ে ২০২১ সালে ভোলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। যার নং-৩২৫/২২। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ জহিরুল ইসলাম তার নিজের জমিতে গত ১১ আগস্ট সকাল ১০টায় ধানের জালা (চারা) লাগাচ্ছিলেন। এমন সময় মোঃ শাহজাহান গংরা এসে চারা লাগানোয় বাঁধা প্রদান করে। তারা বলে এই জমি আমাদের তোমরা এখানে কোন কিছু করতে পারবে না। এ সময় জহিরুল ইসলামের সাথে মোঃ রুবেল ও জলিল মাঝির সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রুবেল ও জলিল মাঝিরা জহিরুলের উপর হামলা চালায়। তখন জহিরুলের ডাক-চিৎকারে তার বাড়ীর লোকজন চলে আসে। এদিকে শাহজাহান মাঝি গংদের আঃ মালেক শিকদার, মোঃ রফি উদ্দিন মাঝি, মোঃ শফিউদ্দিন মাঝি, মোঃ নাহিদ, মোঃ কাওছার ও মোঃ পারভেজ সহ একাধিক লোকজনও ঘটনাস্থলে চলে আসে। ওই সময় শাহজাহান গংরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেয়া থাকায় জহিরুল ইসলামের পরিবারের সকলের উপর দেশীয় অস্ত্র দা এবং লাঠি-সোটা নিয়ে এলোপাথারিভাবে কোপ দেয় ও মারধর করতে থাকে। এতে জহিরুল ইসলামের পরিবারের ছকিনা বেগম (৫০), রীনা বেগম (৩০), রত্মা (১৬), রুপা (৩২) ও রুজিনা বেগম (২৬) কে এলোপাথারিভাবে দা দিয়ে কোপ দেয় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে ছকিনা বেগমের কানে থাকা ৪ আনা ওজনের কানের জিনিসও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ছকিনা বেগমের গালে আঘাত লাগায় তার ২টি দাত পড়ে যায় ও গাল কেটে যাওয়ায় তাকে ৬টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া রীনা বেগমের কপাল কেটে যাওয়ায় তাকে ২টি সেলাই এবং রুজিনা বেগমের মাথায় কোপ লাগায় তাকেও ৪টি সেলাই দিতে হয়।
এদিকে জহিরুল ইসলামরে পরিবার ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চলে আসায় তাদের বাড়ী ফাঁকা পেয়ে শাহজাহান গংরা ওই বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এবং ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় জহিরুল ইসলাম গংদের ঘরে থাকা গরু বিক্রি করা ৭০ হাজার টাকাও লুট করে নিয়ে যায় শাহজাহান গংরা। অন্যদিকে যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে তাতে জহিরুল ইসলাম গংদের পাকা করা একটি গোয়াল ঘর ছিল। ওই ঘরটিও তারা মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে সেখানে ধানের চারা রোপন করে দিয়েছে। যাতে মানুষ বুঝতে না পারে এখানে কোন ঘর কিংবা স্থাপনা ছিল। শাহজাহান গংদের লোকজন অধিক হওয়ায় জহিরুল ইসলাম গংরা তাদের সাথে পেরে উঠছে না। তাদের ভয়ে জহিরুল ইসলাম এখন ঘর ছাড়া। তারা বলছে জহিরুলকে যেখানে পাবে, সেখানেই মারধর করবে। এমনকি তাকে বিভিন্নভাবে নানা রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই জহিরুল ইসলাম দাবী হয়ে শাহজাহান গংদের ৯ জনকে বিবাদী করে ভোলা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সুপার ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে দায়িত্ব দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শামিম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পান।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান গংদের মোঃ শফিউদ্দিন মাঝির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই বিরোধীয় জমি আমাদের। জহির গংরা আমাদের জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করছে। ওই জমিতে জহির ধানের চারা লাগাতে গেলে আমারা বাধা দেই। আমাদের জমিতে আমরাই ভোগদখল করছি এবং ধানের চারা লাগিয়েছি। আপনারা জহিরের ঘর ভেঙ্গে ফেলে লুটপাট করেছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা জহিরের বাড়ী-ঘরে কোন ভাংচুর চালাইনি। উল্টো জহির তার নিজের ঘরে ভাংচুর ও কুপিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শামিম হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট আমি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।