সর্বশেষঃ

জাকির-এজাজ-জসিমসহ অনেকে আমার কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়েছে

ভোলার বাণী রিপোর্ট ॥ আমি ১৯৯৬ সাল থেকে গাছের ব্যাবসা দিয়ে শুরু করি। ২ থেকে ৩ শত শ্রমিক আমার সাথে কাজ করেছে। ১৯৯৯-২০০০ সালে মায়ের দোয়া নামে বিস্কুট এর কারখানা স্থাপন করি। এর পরে মায়ের দোয়া নামে বাগমারা ব্রীজের কাছে একটি ব্রিকস্ ফিল্ড তৈরী করি। ভোলার বড় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া, দক্ষিণ বালিয়ার রফিকুল ইসলাম বাবুল মিয়া আমাকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। এরপর-ই শুরু হয় আমার বিরুদ্ধে অভিযান। ওরা আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দিলে এলাকার বিএনপি-আওয়ামীলীগ-জামায়াত, ছোলে-মেয়ে ঝাড়– ও লাঠি নিয়ে আমার পক্ষে মিছিল করে। তখন এনায়েত স্যার থানায় দারোগা ছিল। তিনি তদন্ত করে দেখলেন সব মিথ্যা। এলাকার কোন ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে কিছু বলে নাই। ১০ হাজারের মত লোক তখন আমার পক্ষে মিছিল করেছে। পরবর্তীতে যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। এমন অভিযোগ করেন রূপালী মৎস্য ও হ্যাচারী, সাবাব-মায়ের দোয়া ব্রিকস্ এর মালিক মোঃ আমির হোসেন।
তিনি আরো বলেন, এর পরে আমি রূপালী মৎস্য হ্যাচারী নামে ব্যবসা শুরু করি। মাছ বড় হলেই এলাকার সন্ত্রাসীরা ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলে। তখন সাংবাদিক ভাইয়েরা কোন এক অদৃশ্য শক্তির ভয়ে নিউজ করতে পারতো না। তবে আমি ঢাকা-বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিকদের মাধ্যমে নিউজ করে রাইখ্যা দিছি। পরে মিয়া বাড়ীর ফারুক মিয়ায় হ্যাচারী ভাড়া নিয়ে পুরোদমে মৎস্য ব্যবসা শুরু করি। এর পরবর্তীতে ভেলুমিয়ায় সাবাব ব্রিকস্ নামে একটি ব্রিকস তৈরী করি। এরপরই সন্ত্রাসীরা কিছু ব্যক্তি ইন্দনে আমার সাবাব ব্রিকসটি ভেঙ্গে গুড়া করে ফেলে। তখন ডিসির কাছে বিচার দিতে গেলে তিনি বলেন, আপনার তো সব লাইসেন্স আছে, কেন ভাঙ্গলো ? এই মূহুর্তে আমি কিছু করতে পারবো না। আমার এ ব্রিকস ফিল্ড ভাঙ্গার কারছে ১৪ কোটি টাকা লোকসান হয়। এই টাকাগুলো ব্যাংক লোন এবং লেবারদের দাদন।
আমার কাছে তখন ভাত খাওয়ার মত কোন টাকা-পয়সা ছিল না। এলাকার লোকজন আমাকে চাল কিনে দেয়, কেউ বাজার করে দেয়। যারা বিদেশ থাকে তারা আমাকে বিদেশে যাওয়ার জন্যও পরামর্শ দেয়। আমার এলাকার রফিকুল ইসলাম বাবুল মিয়া আমাকে নতুনভাবে ব্যবসা করতে সাহায্য করেছে। আমাকে তার সিসি থেকে টাকা দিয়েও সাহায্য করেছে। আমার এই চরম বিপদে রূপালী ব্যাংক বাংলাবাজার শাখার জুলফিকার স্যার আমার এই করুন অবস্থা দেখে সম্পত্তি রেখে আমাকে ৬ কোটি টাকা ঋণ দেয়। আমি এদেরকে আজীবন স্মরণ করবো। এলাকার খোরশেদ খা, সফিক মিয়া, আমার বাবাসহ কিছু লোক তোফায়েল আহমেদ স্যার এর কাছে যাই। তিনি বলেন, তুমি আবার ব্যবসা শুরু করো, আমি ডিসিকে বলে দেই। আমরা ডিসির কাছে গেলে তিনি বলেন, আপনি শুরু করেন; আমি দেখবো। কিন্তু পরবর্তীতে আমার কোটি কোটি টাকা নস্ট হলো তা তিনি অদৃশ্য শক্তির কারণে কিছুই বলতে পারেন নাই। পরবর্তীতে আন্দালিভ রহমান পার্থ সাহেবের সহযোগিতায় ঘুরে দাড়ানোর পর আবার শুরু হয় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
আমির হোসেন বলেন, থানা থেকে একজন কর্তা আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আপনি ভোলা থেকে এখনই চলে যান। আপনার বিরুদ্ধে ক্রোস ফায়ারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসিল্যান্ড বলেন, আপনি খাল দখল করেছেন, ফিল্ড চালাতে পারবেন না। পরবর্তীতে তদন্ত করে দেখেন সব মিথ্যা। এজাজ মাতাব্বর বিভিন্ন নেতাদের নাম দিয়ে আমার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যায়। সে এক বিশেষ নেতার লোক, তাই আমি তাকে কিছুই বলতে পারি নাই। জাকির আমার আপন ভগ্নিপতি, সে আমার ম্যানেজার ছিল। সেও বিভিন্ন লোকের ইন্দনে এবং এজাজ মাতাব্বরের সাথে করে ২ ফিল্ড থেকে ৬ কোটি ১২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মেরে দেয়। এছাড়া জাকির আমাকে হত্যা করার উদ্দেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করতে থাকে। কাউকে ইট বাকি দিছে, কাউর কাছ থেকে নিজে টাকা নিয়েছে, বাকি বিক্রি করে পরে টাকা নিছে। ৬ হাজার থেকে পরবর্তীতে ১২ হাজার টাকায় চাকুরী করা এই জাকির কোটি কোটি টাকার মালিক কিভাবে হলো ? আমি প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবী করছি। তদন্তের মাধ্যমে এর একটি সঠিক সমাধান দাবী করছি। যারা আমার টাকা মেরে দিয়েছে তারা যদি টাকাগুলো দেয় তা হলে আমার পাওয়ানাদার এবং ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে পারি।
এদিকে দক্ষিণ বালিয়া এলাকার শাহে আলম, পিতা- রুস্তম আলী। আকবর, পিত-আবুল কাশেম, খোকন, পিতা- শাহে আলম, হেলাল, পিতা-আবুল কাশেম, জসিম, পিতা-আকবর, আলামি-এমরান, পিতা-মৃত: ইউসুফ এরা আমার ৫নং ওয়ার্ডের রূপালী মৎস্য খামারের জমি ও আশপাশের ক্রয়কৃত সম্পতিগুলো জোরপূর্বক দখল করে রাখছে। এ সম্পতিগুলো রূপালী ব্যাংকের কাছে মর্গেজ দেওয়া। এই সম্পতিগুলো ওই সকল লোকদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারি তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।