সর্বশেষঃ

ম্যধরাত : পর্ব-১৭৯

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত পর্বের পর) : অনেক অনেক কথা, কাব্য-কবিতা-সাহিত্যেও আমি অনাদি তথ্য মনে মনে কতক্ষণ আওড়ালাম। তারপর ঘুমের কোলে ঢলে পরলাম। ঘুমে ঘুমে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। উঠে ড্রইং রুমে গিয়ে জানালা দিয়ে রাতে রূপকে অনুভব করার চেষ্টা করলাম। রাতে একটা সুন্দর রূপ আছে, সেরূপকে অনেকে বুঝতে পারে না। যেমন- আমি পারিনি। রাতকে আমর কোনদিনও যেন ভাল লাগতনা। রাত হলে কেন জানি মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। কেন জানি না জানা মানষ প্রিয়ার বিরহে ব্যকুলিত হয়ে, না জানি কত ভূখা-ফাঁকা দীন দরিদ্র লোক আমার দুয়ার ধরে কেঁদে কেঁদে ফিরছে। দিন এর আলোয় ওদের কাছে ডেকে এনে দুটু পয়সা দিতে পারতাম, এক মুঠো ভাত দিতে পারতেম, দুটো মিষ্টি কথা বলে ওকে অভয় দিতে পারতেম, রাত কেন হয় ? সেই শৈশব থেকে আমার এই প্রশ্ন প্রকৃতির কাছে। তবু যতদিন এই পৃথিবী আছে, এই ঘূর্ণায়মান চক্রে পৃথিবীর অমোঘ নিয়মে রাত শেষ হয়ে দিনের আলো ফুটবে।
কতক্ষণ জানালার কাছে দাঁদিয়ে থেকেছি, দেখলাম ড্রইং রুমের ফ্লোরে চাদর মুড়ি দিয়ে অঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন ডোরা। ফুলের মত মুখ খানা ¯িœগ্ধ হাঁসিতে আচ্ছন্ন। কোন অভিযোগ নেই, অভিমান নেই, হতাশার ছাপ নেই, চাঁদের মতই নিষ্পাপ। দূর থেকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম। কেন কাছে যেতে পারিনে- একটা সংস্কার আমাকে দংশন করে। ধীরে ধীরে আবার এসে বিছানায় পিঠ রাখলাম। চুপ করে শুয়ে থাকলাম। ডিজনী যাওয়ার জন্য চিন্তা করলাম। আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফুটে উঠল। আমি বাথরুমে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করে এলাম। মুখ ধোবার পর শরীরটা যেন শান্ত সুশীতল লাগল।
উমা নাশতা খেতে লাগল। ডোরা পরিপাটি হয়ে খেতে এল। আকাশের কত রং এই বইয়ের দুটু কপি এনে আমার হাতে এক খানা, উমার হাতে এখানা দিল। আমি বইটা দাঁড়িয়ে ইউরোপীয় কায়দায় গ্রহণ করে বললাম, ধন্যবাদ। উমাও বসে বসে বলল, বাবাঃ এতদিন পরে, ধন্যবাদ। উমা বলল দেখি পড়ে, ডোরাদি কেন মিস থেকে গেল। আমিও সুশান্ত উমার কথা বলার ভঙ্গি দেখে হেসে উঠলাম। কিন্তু তার আগে সুশান্তকে বললাম, ডিজনী যাওয়ার জন্য ডোরার সাথে আলাপ করে দিন স্থিও করার জন্য। আমি বইয়ের পাতা খুব ধীরে উল্টে যেতে লাগলাম। বইয়ের নায়ক প্রশান্ত চৌধুরী। সু-পুরুষ, সুঠাম দেহ, টানা আয়ত ডাগর চোখ। নায়িকা সুপ্রিয়া চৌধুরী। সু-কণ্ঠী গানে অপূর্ব গলা, দেখতে ভালো, কিন্তু গরীব। সুপ্রিয়া মিষ্টার চৌধুরীকে ভালবাসে। ছলে বলে করা কৌশলে মিষ্টার চৌধুরীকে প্রেমের ইঙ্গিত দিয়েছে। ইউনিভার্সিটির নাম করা ছাত্রী। তবে বাধা কোথায় ? গরীবের মেয়ে বলে ? গরীব হওয়া কি অপরাধ ? এই প্রথম বইয়ের সূচনা। জীবনে চলার পথে ভাই-বোনদের পড়াশুনার পালা শেষ করতে, তরাই-উৎরাই করে জীবন সমুদ্রের জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে দীর্ঘ দিন কেটেছে এই রাহুর গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।