ভোলায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে চরের মানুষের জীবন, যোগাযোগের একমাত্র ভরসা অবৈধ ইঞ্জিন চালিত ট্রলার

এইচ এম নাহিদ : মেঘনায় এখন অনেক ঢেউ। পানির শ্রোতে ট্রলারে অনেক ঝাঁকুনি সৃষ্টি হয়। বড় বড় ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারে পানি উঠে আসে। শরীর ভিজে যায়। অনেক সময় নারী ও শিশুরা ঢেউয়ের ঝাঁকুনি খেয়ে কান্না শুরু করে। নদী এমনিতেই গরম তার উপরে ঝড় উঠলে যেকোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় দুর্গম এই চরাঞ্চলের ৫০ হাজার মানুষের। চর মদনপুরের আব্দুর রহমান (৫৫) বলেন, দুঃখ,কষ্ট, অভাব আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আমাদের জীবন পোকা মাকরের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত। ঝর বৃষ্টিতে মেঘনা পারাপারে আমাদের এখন আর ভয় করেনা। ১০ বছরে ১২ বার মেঘনায় গ্রাস করেছে। এখন সর্বস্বান্ত হয়ে অন্যর জমি বরগা চাষ করে পেট চালাই। চরের মানুষের জীবন কোনদিন পরিবর্তন হবেনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর চটকিমারার, চর রামদাসপূর, মাঝেরচর, দৌলতখাঁন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর মদনপুর , চর নেয়ামতপুর, চর হোসেন’এ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। মৎস্য ও চাষাবাদ চরের মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস থাকায় জীবন ও জীবিকার তাগিদেই এই মানুষগুলো বিচ্ছিন্ন এই দুর্গম চরে বছরের পর বছর বসবাস করে আসছেন।
এসব চরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ব্যাবস্থার অন্য কোন মাধ্যম না থাকায় যাতায়াতে ইঞ্জিন চালিত নৌকাই একমাত্র ভরসা। এ চরের মানুষ গুলোর জরুরি কোনো রোগীকে দ্রæত জেলা শহরে নিতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই বর্ষায় যাত্রী পারাপারের স্থানগুলোতে সরকারের বিধি নিষেধ থাকলেও এই নৌপথে যে ক’টি যাত্রীবাহি ট্রলার চলাচল করে তার একটিরও নেই কোন অনুমোদন, নেই জীবন রক্ষাকারি বয়া ও লাইফ জ্যাকেট। ভোলায় বিআইডবিøউটিএর কোন নজরদারি না থাকায় যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্বক দূর্ঘটনা। এই সুযোগে ট্রলার মালিকরা অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় ট্রলার গুলোর ধারন ক্ষমতার উর্ধ্বে যাত্রী বোঝাই করে প্রতিদিন উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন।
ভোলা বিআইডবিøউটিএর পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই ঘাট গুলো বেওয়ারিশ হিসেবে চলছে, আমাদের আওতায় নয় আপনি জেলা পরিষদ ভোলাকে জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারবে। কারন ঘাটগুলো তারা ইজারা দেয়। জেলা পরিষদ বলছে এগুলো সমন্ধে আমরা কিছু জানিনা।
ভোলা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিদর্শক আমির হোসেন বলছেন, আমাকে তথ্য দিন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।