মধ্যরাত : পর্ব-১৭৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত পর্বের পর) : ভবতোষ বলল, মন্ট্রিলে থাকতে শরীর খারাপ ছিল, তারপর আর শরীর সারেনি ? বললাম, না মাঝে মাঝে প্রেসারটা বেড়ে অসুস্থ্য হয়ে পরি। তাই ভয় হয় কখন না কখন জানি বিছানায় পরে যাব। তাই এখানে ক’দিন বিশ্রাম নিয়ে ভাবছি, ডিজনী যাব। তা আপনারা আসুন না ? ভবতোষ বলল, যার বাড়ী সে না বললে কি করে আসি। তা ডিজনী যাওয়ার পথে আপনাকে একবার দেখে যাব। ডোরা এসে ফোন ধরল, হ্যালো ডোরা বলছি, আসুন না একবার আমার এপার্টমেন্টে চা খেয়ে যান। আসলে খুব খুশী হব।
সেদিন বিকেলে দিকে ভবতোষ, অমিয়, বিজন, রাহাত খান বাড়ীর ঠিকানা নিয়ে ডোরার বাড়ীতে এসে উপস্থিত। সাথে অবশ্য অমিয় বিজনের স্ত্রী’রা ছিল। আমি খুব খুশী হলাম, বন্ধুরা যে আমাকে বিদেশে বিভুঁয়ে এত কষ্ট করে দেখতে এসেছে। সাথে করে অনেক ফুল ও ফল নিয়ে এল। রাহাত খান অনেক খুটিয়ে খুটিয়ে আমাকে দেখল। নাতনীর বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করল। বললাম, বিয়ে হয়ে হানিমুনে যাচ্ছে ডিজনীতে। নাত জামাই নাতনী আমাকে সুশান্তকে টানতে টানতে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত এনেছে। এখন তাদের সাথে ডিজনী পর্যন্ত যেতে হবে, না যেয়ে উপায় নেই। অমিয় বলল, দোলা কোথায় ? এখানে ওর ননদের বাড়ীতে উঠেছে। ননদের স্বামী ইঞ্জিনিয়ার। ভবতোষ বলল, তা প্রশান্ত বাবু বেশ মজাতেই আছেন। বিয়ে না, সাদী না, নাতনী-নাত জামাই। তারা আবার তাকে নিয়ে হানিমুনে পাড়ি জমাচ্ছে। একেই বলে ভাগ্য। সকলেই হেসে উঠল। আমি চুপ করে থাকলাম।
ডোরা অতিথিদের চা-নাস্তা দিয়ে আদর আপ্যায়ন করল। সুশান্ত এসে ওদের সাথে গল্পে যোগ দিল। উমা এসে অমিয়-বিজনের স্ত্রীর সাথে আলাপ পরিচয় করল। আমার বাসায় মন্ট্রিলে ওদের সাথে উমা-ডোরার পরিচয় হয়েছিল। সেই আলাপের সুত্রে আজ আরও বেশি ভাব জমল। অমিয়-বিজন বলল, মিস প্রফেসার বসুন, আপনার সাথে আলাপ করি। আমরা আপনার বাড়ীতে খেতে আসিনি। প্রশান্ত বাবুকে দেখতে এলাম। ডোরা বলল, অমিয় বাবু আমিও আপনার বাড়ীতে নিমন্ত্রণ খেয়ে এসেছি। আপনাকে ছাড়ছিনা, আগামী দিন শনিবার উইক এন্ড ডের ছুটিতে দোলা-কচ প্রশান্তর নাতজামাইকে জোৎ¯œা এই মুগ্ধ ময় রজনী। কিছুনা, যে দিনান্তে একমুঠো ভাত পায়না, তার কাছে এর মূল্য নেই। যে রোগে ঔষধ পায়না, চিকিৎসা পায়না, তার কাছে ঐ চাঁদ আগুনের ফুলকি। পথ দিয়ে একজন খোঁড়া লোক ক্রাচে ভর করে ঠুক ঠুক করে এগিয়ে যাচ্ছে, কাঁধে একটা ময়লা কাপড়ের পুটুলি জীর্ণ শীর্ণ। চোখ দু’টি কোঠর গত, লোকটা সাদা, দেখে দুঃখ হল। আহা লোকটার পা নেই।

(চলবে———-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।