সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-১৭২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : আমি এটা মানিনা। যদিও আমার বাংলাদেশের দামাল ছেলেদের দাম সমগ্র বিশ্বের কাছে স্বীকৃত হয়ে আছে। বায়ান্নর বাংলা ভাষা আন্দোলনে যদি আমার সোনার বাংলার সোনার টুকরো ছেলেরা বুকের রক্ত না দিত, তবে আজ বাংলা ভাষা মাতৃভাষা হতো না। যদি ইস্ট পাকিস্তান-ওয়েস্ট পাকিস্তানের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ বাঙালী মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে নিজের জীবন বলি না দিত, তাহলে বাংলাদেশ হতো না। আজ আমার সোনার বাংলায়, বাংলাদেশের পতাকা উড়াতো না। আমার সোনার বাংলার সোনার ছেলেদের (এক লক্ষ বাঙালী) প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। তবে আমাদের মা-বোনদের অনেক সম্মান। আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি, এই লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের এই মায়েরাই পেটে ধরেছেন, বুকে ধরে মানুষ করে দেশের মান বাঁচানোর জন্য দেশের জন্য রক্ত দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পাঠিয়েছেন। সুনীল গঙ্গোপ্যাধ্যায় বঙ্কিম পুরস্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি ও উপন্যাসিক তার লেখা।
বইটির কয়েকটি লাইন আমাকে বারবার ছুয়ে গেছে। যখন নবীনতার ডায়রীর পাতায় লেখেন একদিন আমি থাকবনা, তুমি থাকবেনা, অন্য মানুষ আসবে, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে যাবে। খুব বাসনা ছিল পরের শতাব্দটা দেখে যাব, কতই বা দূর। সেই এক রাত্রে ঘনঘন তোপধ্বনির মধ্যে এই শতাব্দির অবসান হইয়া বিংশ শতাব্দী আসবে মনশ্চক্ষে যেন দেখিতে পাই। তাহা কত আলোকজ্জ্বল, কত আনন্দময় হে অনাগত যুগ তোমার জয় হোক। সত্যি কবি সাহিত্যক উপন্যাসিকের লেখা সৃষ্টির সৃষ্টিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। অনাগত যুগ, অনাগত ভবিষ্যতের কথা তারাই একমাত্র তার সৃষ্টির মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। আমি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। দুনিয়ার ভাবনা, রাজ্যের ভাবনা যেন আমাকে ক্লান্তিতে আছন্ন করে রাখে। ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করলেই কাজের মধ্যে গেলে এসব ভাবনা মাথাটা ভার হয়ে থাকবেনা। শুয়ে শুয়ে থনবার্ডটা দেখছিলাম। ডোরা এসে বলল, প্রশান্ত উঠ; ¯œান কর, খাবে না ? আমি বললাম, যাচ্ছি। তোমার কেনা-কাটা হল ? ডোরা বলল, কিছু কিছু অনে বাকী রয়ে গেছে। আমি বাথরুমে ঢুকলাম, তাড়াতাড়ি গায়ে জল ঢেলে চলে এলাম। খেতে খেতে সুশান্ত অনেক হাসির গল্প করল। রান্না উমাই করেছিল।
এখানে বেশ করল্লা, উচ্ছে ইন্ডিয়ান দোকানে পাওয়া যায়। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল, সুশান্ত ফোন ধরল, আমাকে এসে বলল, তোমার মন্ট্রিলের কক্রোডিয়ার সব প্রফেসাররা ডিজনী যাওয়ার পথে ভার্জিনিয়ায় থেমেছে। ভবতোষ তোমাকে ডাকছে। আমিত শুনে অবাক। হ্যালো হ্যালো কে প্রশান্ত বাবু ? হ্যাঁ, আমি প্রশান্ত বলছি। হ্যালো আমি ভবতোষ বলছি, বড়দিনের ছুটিতে আমরা ভার্জিনিয়া হয়ে ডিজনী যাচ্ছি। শুনলাম, আপনি এখানে; শুনে থামলাম। তা কেমন আছেন প্রশান্ত বাবু ? বললাম, ভালো। মিস ডোরা প্রফেসার এর ওখানে আছেন-ত ? বললাম, আমার বন্ধু সুশান্তও তার স্ত্রী উমা এখানে আছে। আর তা ছাড়া আমার শরীর মোটেই ভালনা, সেজন্য সুশান্ত আমার বন্ধু উমা আমার সাথে সাথেই থাকে।

(চলবে—–)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।