ভোলায় মালচিং পেপার ব্যবহারে টেকসই সবজি চাষে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ
মধ্যরাত : পর্ব-১৬৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন)
(গত পর্বের পর) : আটলান্টিক মহাসাগরের প্রকান্ড ঢেউয়ের ঝাপটা এসে জাহাজটা খুব দুলতে লাগল। আমিও কাঁত হয়ে পরেই যাচ্ছিলাম। উমার জিনিস পত্র সব লন্ড-ভন্ড হয়ে জাহাজে গড়াগড়ি দিচ্ছিল। সুশান্ত উঠে গোছ-গাছ করে রাখছিল। কচ দোলা দোতলায় নেমে এসে হেসে লুটুপুটি খাচ্ছিল। আমি বার বার স্ট্যচু অব লিবার্টির দিকে অবাক নয়নে ফিরে ফিরে দেখছিলাম। কৃতজ্ঞতায়, শ্রদ্ধায়, বিশ্বাসে, ভালবাসায়, যে শিল্পী দীর্ঘ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে এত উচুতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে ভয় না করে হাঁসি মুখে এই স্ট্যচু অব লিবার্টি তৈরী করেছেন, তাকে প্রণাম জানালাম। কেন জানি স্ট্যচু অব লিবার্টির কাছে থেকে আমার মন আসতে চাচ্ছিলনা। কেন জানি মনে হয়েছিল যুগ যুগ ধরে ঐ শিল্পী সত্ত্বার বেদীমূলে আমি দাঁড়িয়ে থেকে তাকে দেখি। কে এই শিল্পী ? কতদিনের পরিশ্রমে, কতদিনের সাধনায়, কত ত্যাগ ও তিতিক্ষায় অমর র্কীতির পরিচয় দিয়েছে।
তাজমহলও নাকি যমুনার কূলে স্থাপিত। বড় বড় সাধকরা দেখি বিশাল বিস্তৃত মাঠের কোনে, বিরাট আকাশের নীচে, বড় বড় গাছের নীচে বসে সাধনা করেন। নিরালা নির্জ্জন নিস্তদ্ধ নিঝুম নির্বাক প্রান্তর না হলে কোন সাধকের বা কোন শিল্পীর সাধনা সার্থকতা লাভ করতে বোধ হয় পারেনা। জাহাজ (মিস লিবার্টি) এসে সাগরের কূলে ভিড়ল। দোলা-কচ তরতর করে নেমে গেল। আমি সুশান্ত উমা আস্তে ধীরে নেমে পরলাম। এখন গাড়ীতে উঠার পালা। এপারে এসেও আমি স্ট্যচু অব লিবার্টির দিকে ফিরে ফিরে দেখলাম। জীবনা নন্দের একটি কবিতার কথা মনে পরল। আসিব আবার ফিরে, ধান সিড়ি নদীর তীরে।
দোলা-কচ গাড়ীর পিছনের সীটে গা লাগিয়ে বসে উমার জন্য জায়গা রাখল। উমা হাঁসিমুখে ওদের পাশে বসে পরল। আমি সামনে সুশান্তর ড্রাইভিং সিটের পাশে বসে পরলাম। বার বার বিরাট দালান কোঠাগুলি চোখ ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে দেখলাম। টুইন টাওয়ারকে আবার নতুন করে দেখে সাদর সম্ভাষণ জানালাম। সত্যি বিশ্ব প্রভু এ পৃথিবীতে মানুষের দেখার জন্য এত কৃত্রিম জিনিস সৃষ্টি করে রেখেছেন, যা দেখলে মনে হয় অবাস্তব। মাঝে মাঝে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি, হাত দিয়ে স্পর্শ করে তবে অনুমান করি এবং যাচাই করি বাস্তব না অবাস্তব। সুশান্তর গাড়ী ষ্ট্রাট দিলে গাড়ী উল্কার মত একে বেকে ধেয়ে চলল। আমি সামনে বসে বসে ভাবছিলাম অনেক অনেক কথা। অনেক বড় বড় ট্যানেলের মধ্যে গাড়ী দৌড়ে যাচ্ছিল। নিউইয়র্ক শহরকে দেখলে বার বার কলকাতার কথা মনে হয়। তেমনি বড় বড় ঘন ঘন দালান কোঠা। তেমনি জাক-ঝমকপূর্ণ দোকান-পাট।
দোলা বলল, দাদু কুসুমের ওখানে ভার্জিনিয়ায় চল। আমি বললাম, সুশান্ত ভার্জিনিয়া চল। ওখানে ডোরা আছে, ও এবার এত করে বলেছে। না গেলে খুবই দুঃখ পাবে। আর ওখান থেকে দল বেঁধে এবার ডিজনী যাওয়া যাবে। দোলা আনন্দে হাততালি দিল, কি মজা মজা। হবে না দাদু ? এবার ডিজনী গেলে কচ তোমাকে কেবল উঠতে হবে। সাবমেরিনে চড়তে হবে। না দাদু ? আমরা সকলে সেখানে বেশ মজা করব। কচ-কুসুম যাবে ? কচ বলল, তা-ত জানিনা; ওর জামাই বললে নিশ্চয় যেতে পারে।
(চলবে——-)
