ভোলায় মালচিং পেপার ব্যবহারে টেকসই সবজি চাষে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ
মধ্যরাত : পর্ব-৫৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : দোলাকে বললাম চিঠি দিস, ফোন রাখি। অনেকক্ষণ চুপ করে ভাবলাম। তারপর মন থেকে সব কিছু মুছে ফেলে ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য তৈরী হলাম। ইউনিভার্সিটিতে গেলাম বিকেলে ফিরে এলাম। সেদিন একটা বাংলা বই চলছিল কঙ্ক্রোডিয়াতে নষ্টনীড়। রবীঠাকুরের লেখা। দুটো টিকেট নিয়ে এলাম। দোলাকে বললাম, ফাষ্ট শো তে বই দেখতে যাব। ভাল বাংলা বই আছে, দেলা শুনল, ও যেন কি ভাবল- বলল, আচ্ছা। আমি নিউজ পেপারটা হাতে নিয়ে কতক্ষণ চোখ বুলিয়ে গেলাম। দোলা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিল, হঠাৎ ফোন ক্রিং ক্রিং করে উঠল। হ্যালো দাদু যাবেন ? হলে ভালো বাংলা বই আছে। আমি বললাম কে ? হেসে উঠল, দাদু আমি শ্যামল। আমি বললাম, গলা নিচতে ভুল হয়েছে। কিছু মনে করো না। তোমরা সব কেমন আছ ? দাদু আজ আসছেন তো ? বললাম, দেখি আসেত পারি। ফোন ছেড়ে দিলেম। মন মেজাজ বেশী ভাল নেই। কাকে যেন ভাল লাগছে না। হলে যাওয়ার সময় হয়ে এল। দোলা সেজে-গুজে এল, আমি তৈরী ছিলাম। আমার আর কি একটি প্যান্ট শার্ট সোয়েটার ওভার কোটটা গায়ে জড়িয়ে বললাম চলো। দোলা আমার পাশে বসেছিল। আমি ড্রাইভ করছিলাম। খুব ঠান্ডা বাতাস ছিল, বরফ পড়া প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। তবুও রাস্তার পাশে বরফ স্তুপ হয়ে আছে, ফুটপাত ঝক ঝক, তক তকে। কিন্তু ঠান্ডা এখন অনেক, এখন গায়ে ওভার কোর্ট না দিলে চলা যায় না।
হলে পৌছে দেখলাম সব বাঙ্গালী বো-ঝি রাই উপস্থিত। এখানে একটা জিনিস আমি এ কয়েক বছরে উপলব্ধি করেছি। হলে কোন বাংলা বই হলে সব বাঙ্গালী হিন্দু-মুসলমান সকলেই উপস্থিত থাকে। বাঙ্গালী চৈতন্যতা বোধটা এদের এখন একটু আছে বলতে হবে। যদিও ড্যাড-ম্যামি বলতে এরা কেউ কেউ খুব আনন্দ পায় বা গর্ব বোধ করে।
ম্যাগগিল ইউনিভার্সিটির ইকনমিক্সের প্রফেসার ডাঃ মোহিত হাসান ওনিও এসেছেন। তার সঙ্গে আছে তার শান্ত ¯িœগ্ধ স্ত্রী ক্যামেলিয়া। এই ক্যামেলিয়ার এ যুগের এই বিংশ শতাব্দির একটা বৈশিষ্ট আছে। আমি প্রথম এখানে এসে ওদের বাড়ীতে যেতাম, কভু মাঝে মাঝে। এখন সময় পাই না। এই মন্ট্রিলে ওর তিন দেবর ওর কাছে থেকে পড়াশুনো করে পি.এইচ.ডি. পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। বড় বৌদির দায়িত্ব মায়ের মত করে, ¯েœহ সুলভ বুকে দেবরদের মান-অভিমান-রাগ সব কিছু তুচ্ছ করে এগিয়ে গেছে। ওকে দেখলে শরৎচন্দ্রের বড়দিদি, বা রামের সুমতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ছবি আরম্ভ হয়ে গেছে। এও এক নিসঙ্গহীন বৌদির দেবরের প্রতি ¯েœহশীল মনের ব্যকুল আর্ততা। স্বামী সারাদিন কাগজের সম্পাদনা নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু ঘরের বউয়ের সাথী হয়ে থাকবার সময় তার কোথায় ? নিঃসন্তান জমিদার এর পুত্রবধূর সময় কাটে না। স্বামীর দুর সম্পর্কের ছোট ভাই, সে পড়াশুনো করার জন্য কাছে এল। বড় ভাই ডেকে বলল, অমল বৌঠান এর সময় কাটেনা, একটু আধটু দেখ। এত ভাল, তুই একটু দেখি ভাই, ও বড় একলা। এই গল্পের শুরু তারপর অনেক অনেক শেষ পর্যন্তও অমল ও বৌঠানকে রেখে কোন এক জমিদার বা খুব বড় লোকের মেয়ের পানি প্রার্থী হবে বলে আরও উচ্চ ডিগ্রী নিয়ে সে তার জীবনের পথ বেছে নিল। বৌঠান (চারুলতা) যে একা, সে একা থেকে গেল। স্বামীর কাছ থেকে মন তার আরও দূওে সরে পড়ল।
ছবি শেষ হল। আমাদের বন্ধু অমিয়, পবিত্র, অলক, সুশীল, দেবতোষ ওরা ওদের বৌ-বাচ্চাদের সাথে করে এসেছে। বাতি জ্বলে উঠাতে সকলকে দেখে যেন খুব ভাল লাগল। ওদের বৌরা দোলাকে ঘিরে দাঁড়াল। ওমা কি সুন্দর দেখতে। দোলা লজ্জা পেয়ে মুখ নীচু করেছিল। বৌদিরা বলল এই দোলা বেড়াতে এস, আসবেত ? দোলা মাথা নাড়াল, ও যেন লজ্জায় ঘেমে উঠল।
(চলবে——-)।
