হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় তজুমদ্দিনে বিএনপির আনন্দ মিছিল
মধ্যরাত : পর্ব-৩৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : দুপুরের দিকে একটা টেলিগ্রাম পেলাম। টেলিগ্রামটা না খুলতেই বুক কেঁপে উঠল। তবুও মনে সাহস রেখে খুলে আনন্দে বুক উথলে উঠল। জানিস সুশান্ত, দোলা ভিসা পেয়ে গেছে। ডোরা, উমা, সুশান্ত সকলেই খুশী হল। যাক দোলা আসবে বড়দিকে আনলে আরও ভাল হত। বড়দি আসার কথা কখনও লিখে নাই। সে ছেলে, ছেলের বৌ, নাতি-নাতনী নিয়ে নিয়ে ঠাকুর, চাকর, ঝি এসব নিয়ে পুরোদমে একটা সংসার টানছে। সে এখানে আসলে দমবন্ধ হয়ে মরে যাবে।
ডোরা বলল, বল প্রশান্ত কোন দিন যাব ? আমি বললাম, তোমার যে দিন খুশী। ও বলল, সামনের বুধবার আমি যাব। আমার টিকেট-টা একটু কনফার্ম করতে হবে। আমি বললাম, আমাকে দিও। সেদিনের মত গল্প গুজবে, টিভি দেখে দিন কেটে গেল। রবিবার দিন আমরা সকলেই অমিয়র ওখানে বিকাল ৪টার সময় বেড়িয়ে পড়লাম। উমা সেদিন বাসন্তি রংয়ের একখানা সিল্কের শাড়ী পড়েছিল। হাতে হলুদ চুড়ী, কপালে হলুদ টিপ, কানে হলুদ দুল। ডোরা ম্যাজেনটার রংয়ের একখানা জর্জেট পড়েছিল। বাম হাতে ছোট ঘড়,ি ডান হাতে জড়োয়া সেট করা ব্লেসলেট, আমরা সকলেই গিয়ে অমিয়ের বাড়ীতে উপস্থিত হলাম। অমিয়ের স্ত্রী খুব ব্যস্ত, পবিত্র’র বউ এসে সাথে সাথে সাযাহ্য করছে। ওর দুটি বাচ্চা পুতুল নিয়ে খেলছে, দুটিই মেয়ে। বেজ মেনে পবিত্র ও অমিয়ের মেয়ের বিরাট সংসার, পুতুলের খাট, মশারি, তাদের সোফা সেট, ছোট ওভেন, হাড়ি-কুড়ি, রান্নার সাজ সরঞ্জাম। পবিত্রের মেয়ের ছেলের সাথে অমিয়ের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আজ মেয়ে (পুতুল) ফিরানি এসেছে বাপের বাড়ীতে। জামাইর জন্য কত কি রান্না হয়েছে।
এরি মধ্যে বিদ্যুৎ, অলক, সুশীল, দেবতোষ ওরাও এসে পড়েছে। সঙ্গে বৌদিরা, সকলের সাথে দু’একজন করে ছেলে মেয়ে। ঘড়টা যেন সকলের কলহাস্যে সরগরম হয়ে উঠেছে। কেউ টেবিল সাজাচ্ছে, বিদ্যুৎ এর স্ত্রী দীপ্তিও সুনিপুন হাতে টেবিলটাকে মিনিট পাচেকের ভিতর অপরূপ করে তুলল। অলকের বাসন্তী সুন্দর করে সালাৎ করে নিয়ে এল। সুশীলের বৌ মাধুরী তেতুলের রস দিয়ে পিয়াজ কুচি একটা সালাত বানাল, তাও টেবিলে শোভা পেল। দেবতোষের বৌ সে থালা প্লেট টেবিলে রাখল। সকলেই কিছু না কিছু করার জন্য উদগ্রীব।
বাচ্চারা তাদের খেলা-ধুলা, পুতুল খোলার আসরে বেজমেনে হুড়াহুড়ি, দৌড়া-দৌড়ি করছে। মেয়ে আসছে মা-বাবার কাছে ফিরানি কোরতে। আত্মীয়-স্বজনেরা সে নিয় কত অস্থির। বড়দের জিনিস গুলু এই ছোট ছোট মেয়েরা কিভাবে অনুকরণ করছে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। অমিয়’র মেয়ে মালবীকা এসে আমাদের নিমন্ত্রণ করে গেছে। বলল, কাকাবাবু আমার মেয়ে জামাই এসেছে ফিরানি। দুটো জল পানি মুখে দেবেন। নীচে গেলাম আমি, ডোরা, উমা, সুশান্ত, দেবতোষ, অলক। ওরা ব্যস্ত হয়ে আমাদের বসতে দিল। বাতাস ও জল দিল, আমরা মেয়ে জামাইকে আশির্বাদ করলাম প্রত্যেকই দু-ডলার দিয়ে। অমিয় চেঁচামেচি আরম্ভ করল, এই প্রশান্ত বাবু আপনারা কি ছেলেমি করছেন, এই খাওয়া-দাওয়া রেখে বাচ্চাদের খপ্পরে পরেছেন, হয়েছে আজকে।
আমরা অমিয়র রাগারাগিতে উপরে এলাম। তখন টেবিল থেকে খাওয়ার সুগন্ধে মন ভরে যাচ্ছে। গরম গরম ঘিয়ে ভাসা লুচি, আলুর দম, মাংস, পোলাও, ফুল কপির ডালনা, কলিজার কালিয়া, মাছের কোপ্তা, ভালো ঘিয়ের রান্নার একটা সুগন্ধ আছে। অমিয় চেঁচামেচি করাতে আমরা উপরে এলাম। বাচ্চাগুলো কি দুষ্টু, কাকিমাদের এসে অনুরোধ করতে লালগ, নীচে যাওয়ার জন্য। একটু মিষ্টি মুখ রার জন্য। ওরাও বাচ্চাদের কথা ফেলতে পারল না। নীচে গেল মিষ্টি মুখ করে এল। সকলেই তাড়াতাড়ি উপরে উঠে গেল, কিন্তু বাসন্তী বৌদি নীচে পুতুল মেয়ের গহনা গাটি পড়াচ্ছে। শাড়ী বদলাচ্ছে। পুতুল আবার কালই শ্বশুর বাড়ী যাবে কি না ?
(চলবে———–)
