মধ্যরাত : পর্ব-১২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : ভোর হলো আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। গরম বেড-টি হাতে সুশান্তের স্ত্রী উমাা আমার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। মহা ভারতে আমরা উমার রূপের কথা পড়েছিলাম। আজ ঘুম ভেঙ্গে যা দেখলাম- যেন দুর্গার মত। তেমনি বড় বড় পটল চেরা চোখ। আজানু লম্বিত কাল মেঘের মত চুল। হাটু ছুই ছুই করছে। পাবনার একখানা আকাশ নীল তাঁতের শাড়ীতে ওকে যেন দেভী বলে মনে হল। চা হাতে নিয়ে শুধু এক নজর ওকে দেখলাম। এত বছরেও যেন শরীর এতটুকুন ভাঙ্গেনি। দু’খানি বাহু যেন গোল বেলুনের মত। আঙ্গুলগুলো কাঠাল চাঁপার মত, উমা আমার দিকে চেয়ে একটু মৃদু হাসল। দু’টো গালে টোল পড়ল। অপূর্ব, উমা বলল- চা খান। সুশান্ত এখনও ঘুম থেকে উঠেনি। ও বড় ঘুম কাতুরে। আমি চুপ করে থাকলাম। মনে মনে ভাবলাম সুশান্ত খুব ভাগ্যবান। ওর কপালে সুন্দরী বৌ আছে, ক্যামেলিয়া খুব সুন্দরী ছিল।
উমা যেমন মৃদু পায়ে এসেছিল, তেমনি মৃদুপায়ে চলে গেল। রেখে গেল ওর যৌবনের আলেখ্য, যৌবন বলে মানুষের চলে যায়। উমা’র-ত যায়নি। আমি বাধরুমে গিয়ে ¯œান ও শেভ করে পরিচ্ছন্ন হয়ে এলাম। এত মহা সুন্দরের রাজ্যে আমাকে সুন্দর হয়ে প্রেজেন্ট করতে হবে। চিরনী দিয়ে মাথার চুলগুলি সুন্দর করে পরিপাটি করে, বাক্স খুলে ইস্ত্রি করা শার্ট পেন্ট বের করে পড়লাম। এতদিন পরে আমার যেন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হবার চেতনা ফিরে এল। দেখলাম নিউজ পেপারটা পড়ে আছে, হাতে নিয়ে পড়ার ভান করলাম।
সুশান্তর গলা শুনতে পেলাম, প্রশান্তকে চা দিয়েছ উমা ? দু’জনের ব্রেকফাষ্টটা এক সঙ্গে দাও। এতদিন পরে দেখা। উমার সুন্দও হাতের সকাল বেলার সকল নাশতা টেবিলে গুছিয়ে রাখল। সুশান্ত বলল- উমা, তুমিও আমাদের সাথে খাবে। উমা সুশান্তর পাশে বসল। খেতে খেতে কয়েক বার উমার সাথে আমার চোখাচোখি হল। সুশান্ত বলল, প্রশান্ত তোর খবর কিছু বল ? হঠাৎ কি মনে করে ? কোথা থেকে এলি ? বললাম- ফ্লোরিড গিয়েছিলাম। সুশান্ত বলল, ডিজনী ওয়ালর্ডে গিয়েছিলি ? আমি বললাম হ্যাঁ, অনেক কিছু দেখলাম। সুশান্ত বলল, কোথায় আছিস ? কোথায় চাকরী করিস ? আমি বললাম, মন্ট্রিল। কোন ইউনিভার্সিটি- কনকরডিয়া ? আমি বললাম, হ্যাঁ। সুশান্ত বলল- এতকাছে থেকে কোন খোজ-খবর রাখিস না ? সুশান্ত বলল, আচ্ছা প্রশান্ত বিয়ে করেছিস ? আমি বললাম, এই একটাই করিনি। আর সব করেছি। সুশান্ত বলল, কেন করিস নি ? আমি বললাম তুই শুনেছিস বোধ হয়, ডোরা নামে একটি মেয়েকে ভালবেসেছিলাম। সুশান্ত বলল দূর ছাই, ওসব ভালবাসার কোন মূল্য আছে নাকি ? বিয়ে করে ফেল। আমি বললাম, সুশান্ত এখন আর তা হয় না। বয়ষও হয়ে গেছে। এ বয়সে আর কাউকে ভালবাসতে পারব না। আর তা ছাড়া ডোরার সাথে ফ্লোরিডায় দেখা হয়। সুশান্ত বলল ও বিয়ে করেনি ? সুশান্ত বলল, মেয়েরা সহজেই বুড়িয়ে যায়। পুরুষের যৌবন অনেক দিন থাকে। পুরুষ আশি, নব্বই পর্যন্তও সক্ষম। একটা মেয়ে মানুষকে খুশী করে রাখতে পারে। উমা বার বার কি বলতে গিয়ে যেন গলায় ঠেকে বসল। তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেল। আমি বললাম, সুশান্ত তুই আস্ত একটি উল্লুক, মেয়েদের সামনে কখনও অন্যকে ছোট করে কথা বলতে হয় না। এতে এক মেয়ের সমন্ধে বললে, অন্য আর একটি মেয়ের মনে ভীষণ লাগে।
(চলবে—–)
