শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-১৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : যুদ্ধ শেষ হল, দেশ স্বাধীন হল, বাংলাদেশে স্বাধীন পতাকা ওড়াচ্ছে। মা বলছে, আমার ছেলে ? আমার ছেলে কই ? কেউ বলছে আসবে, আসবে, এই এল বলে। আর এসেছে কিনা আমার জানা নেই, কিন্তু তাদের চোখের জলের ইতিহাস আমার হৃদয়ের পাতায় পাতায় গেঁথে আছে করুণ আর অগুনতি ব্যথার কাতরতা হয়ে।
আমার সোনার বাংলা, বাংলাদেশ স্বাধীন হল। স্বাধীনতার লাল পতাকা নিয়ে আমরা আনন্দে ঘোরাফেরা করছি। কিন্তু কি যেন এক হিরকখন্ড মহামূল্য রত্ন, মহামানব, আমাদের মাঝে এখনও ফিরে আসেনি। সে বাংলাদেশের একমাত্র মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেনি। যেদিন তিনি করাচির কারাগার থেকে ঢাকায় ফিরে এলেন। সেদিন বাংলাদেশের বুক জুড়ে আনন্দের ঢেউ খেলে ছিল। আনন্দের জোয়ারের ফুলঝুড়ি ফুল হয়ে ফুটেছিল সে এক আনন্দ ধ্বনি বেজেছিল। বাংলার আনাচে-কানাচে, নগরে-মহানগরে, জেলায়, বিভাগে, থানায়, মহকুমায়, শাখায়-প্রশাখায়, কোটি কোটি নর-নারী ঢল নেমেছিল ঢাকায় বিমান বন্দরে, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। এত লোক যে ঢাকায় আছে তা আমার জানা ছিল না। বঙ্গবন্ধু আসছে শুনে আমিও একটা কবিতা লিখে ফেললাম-
তুমি এসেছো, তুমি এসেছো,
শুনছি ক’দিন ধরে,
কল্পনার জাল বিছিয়েছি আমি,
রচনায় বাসনায় ঘরে।
আজ তুমি সত্যি আসছো ?
আনন্দে ঘুমাতে পারি না,
ছন্দে ছন্দে, গানে, গানে,
বাজছে শুধু বীণা।
বঙ্গবন্ধু এলেন এক নবীনতার স্বপ্ন নিয়ে। বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন, সুন্দর, ক্ষমা সুন্দর মন নিয়ে। দৃঢ়তার কঠিন ছাপ তার চোখে মুখে। ঢাকা বিমান বন্দরে কোটি কোটি জনতার হর্ষধ্বনিতে তাজউদ্দিন বঙ্গবন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে হাত রাখলেন। একদিন আমি ভীরু হৃদয়ে, দুরু দুরু বুকে বঙ্গবন্ধুর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার বাংলার বঙ্গবন্ধুর মহাজয়ী মহানায়কের সাথে দেখা করতেই তিনি আমাকে চিনলেন। আমি বঙ্গবন্ধুকে বললাম, আপনি আসছে শুনে আমি একটি কবিতা লিখে ফেললাম। আপনি যদি অনুমতি করেন তবে আমি কবিতাটি আপনাকে পড়ে শোনাব। বঙ্গবন্ধু বললেন, পড়–ন। আমি পড়লাম, বঙ্গবন্ধু খুব খুশি হলেন। এমনিতে বঙ্গবন্ধু কবিতা পড়তে, শুনতে খুব ভালবাসতেন। কবিতাটি শুনে বঙ্গবন্ধু আমার আনন্দমুখর মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন। সেদিনটির কথা আমার আজও মনে আছে।
বঙ্গবন্ধু এসে মিনিষ্ট্রি ফরম করলেন বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন জায়গায়। মনসুর আলীকে প্রধানমন্ত্রী করলেন। উনাকে দলের লোকেরা প্রেসিডেন্ট করল। বঙ্গবন্ধু কোনদিনই ক্ষমতার জন্য লালায়িত ছিলেন না। পদ, মান, মর্যাদা, টাকা-পয়সার জন্য বঙ্গবন্ধু উন্মাদ ছিলেন না। খালি সারা জীবন বাংলাদেশ বাংলাদেশ করে জীবনটাকে উৎসর্গ করলেন।
(চলবে———–)।
