ভোলায় মালচিং পেপার ব্যবহারে টেকসই সবজি চাষে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ
শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-১৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : ইনটেলকচ্যুয়ালদের বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে আমাদের দেশটাকে বুদ্ধিজীবী শূন্য করছে। জ্ঞানী লোক আর দেশে থাকছে না। ডাক্তার রাব্বীর সাথে আমার একদিন তার চেম্বারে দেখা হল। আমি তার একজন প্যাশেন্ট ছিলাম। উনি বললেন, জানেন এই পাকিস্তানীরা আমাদের মুরগীর মত খাঁচায় রেখে একটি একটি করে জবাই করবে। ১৪-ই ডিসেম্বর আলবদর, রাজাকার বাহিনীর লোকরা রাব্বীর স্ত্রীর বুকের কাছে বন্দুক রেখে রাব্বীকে তার চোখের সামনে দিয়ে ধরে নিয়ে গেল। তারা রাব্বীকে বাড়ি থেকে ধরে এনে চোখ বেধে হত্যা করল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর মীরপুর বধ্যভূমিতে তার লাশ পাওয়া গেল। আমি একটি ডাক্তার মেয়ের সাথে তার বাড়ীতে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিন দিন তিন রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। দেখে বড় ব্যথা লাগল, এ রকম একটি লব্ধ প্রতিষ্ঠিত, যশ ও সুনামের ডাক্তার বাংলাদেশে জন্মাবে কি না সন্দেহ।
ওয়েষ্ট পাকিস্তানের এক লক্ষ সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও ওয়েষ্ট পাকিস্তানের মেজর জেনারেল নিয়াজী, বাঙালী মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল অরোরার কাছে ১৬-ই ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করল। কত লোক দেখতে গেল, কত দেখতে গিয়ে গুলি খেয়ে মারাও গেল। দেশ স্বাধীন হল। স্বাধীনতার লাল সূর্য শিখা, লাল পতাকা স্বাধীন আকাশের বুকে, কত হাজার হাজার বাড়ীর ছাদে উড়ছে। আনন্দে, খুশিতে বুকে আমার কত স্বপ্নের বাসা বাঁধল।
কিন্তু কত মায়ের ছেলে হারাবার ব্যথা। কত বোনের ভাই হারাবার কান্না, কত স্ত্রী তার স্বামী হারাবার ব্যকুলিত হা-হা-কার। কত বুদ্ধিজীবী, প্রফেসর, জার্নালিষ্টদের ওরা মেরে ফেলল। এসব কথা ভেবে আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। কি ব্যথার আর্তি সেদিন আমার বুকে জমে ছিল তা আজ আমি বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার সেই করুণ চোখের চাহনি দিয়ে সকলের পরে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মত তাকিয়ে দেখছিলাম কে ফিরে এল, কে ফিরে এল না। কত মা কাতর নয়নে তার মুক্তিযুদ্ধের হারানো ছেলেকে খুঁজছিল, কত জন কত জনকে জিজ্ঞাসা করেছিল। কবে, কখন, কোনদিন, কোন মাসে তার ছেলে মুক্তিযুদ্ধের আস্তানা থেকে ফিরে আসবে।
(চলবে——–)
