জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৯১

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : মালয়েশিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : মালয়েশিয়ার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে নানা মত প্রচলিত আছে। জানা যায় যে, মালয়ে উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে সর্বপ্রথম কয়েকটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। খৃষ্টপূর্ব ৯০০ সালের দিকে পালেমবাংয়ের শ্রী বিজয়ন সমরাজ্যের সংস্পর্সে আসে এর কয়েকটি রাজ্যে। এই প্রভাব ক্ষুন্ন হয় ত্রয়োদশ শতকের দিকে। এ সময় এ অঞ্চলে জাভা ও থাই সম্রাটের প্রভাব সম্প্রসারিত হয়।
তবে মালয়েশিয়ার প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় চতুর্থ দশ শতকে। এটা ছিল মেলাকা সম্রাটের সময় কাল। ঐ সময়ই ছিল মালয়েশিয়ার জন্য স্বর্ণযুগ। এ সময়ই এ অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে। মেলাকা সম্রাট নিজেও ধর্মান্তরিত হন। ইসলাম এ অঞ্চলে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে এবং সম্ভবতঃ ইসলামই হচ্ছে বাইরের প্রভাব যা পরবর্তীতে মালয়েশিয় সমাজ বিনির্মানে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
মালয়েশিয়া অঞ্চলে সর্বপ্রথম ইউরোপীয়ানদের আগমন ঘটে ষোড়শ শতকে। ১৫১১ সালে পর্তুগীজরা মেলাকা দখল করে নেয়। ডাচ্রা দখল করে নেয় ১৬৪১ সালে। এরা মালয়েশিয় সামাজিক ক্ষেত্রে তেমন কোন পরিবর্তন আনে নাই। অষ্টাদশ শতকে বৃটেন তার ভারত সাম্রাজ্য থেকে মালয়েশিয়ার দিকে হাত বাড়ায়। ১৮৭৬ সালে নিয়ে নেয় সুলতানের হাত থেকে। জোহরের সুলতানের হাত থেকে ব্রিটিশ সিঙ্গাপুর নিয়ে নেয় ১৮১৯ সালে। আর ১৯২৪ সালে সুমাত্রার ভেনকুলেনের সঙ্গে মেলাকার বিনিময়ের মাধ্যমে ডাচদের থেকে মেলাকা নিয়ে নেয় বৃটিশরা। এর দুই বছর পর পুলাও পিমা মেলাকা ও সিঙ্গাপুর নিয়ে গঠন করা হয় স্টেইঁস সেটেলমেন্টস। এর পরেই এখানে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের সুত্রপাত ঘটে। প্রথম দিকে সুলতান ও মালয় ধনীরাই ছিল এ ব্যাপারে অগ্রণী। পরবর্তীতে টিন খনিতে কাজ করতে আসা চীনা শ্রমিকরাও বিনিয়োগে উৎসাহী হতে থাকে। ১৮৬৭ সালে বৃটিশ প্রশাসনের ভারতীয় কার্যালয় থেকে মালয়েশিয়া সরাসরি কলোনিয়াল অফিসের হাতে ন্যাস্ত হয়।
১৮৭৪ সালে প্যাকর চুক্তি অনুযায়ী মালয় রাজ্য সমূহে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়। বৃটিশরা সরাসরি ডিউটি তোলা শুরু করে এবং রেসিডেন্টদের উপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করে। রেসিডেন্টরা সুলতানদের ধর্ম ও সংস্কৃতি ছাড়া আরো সকল বিষয়েই উপদেশ দিত। ১৮৯৫ সালে মালয়েশিয়ার পরিধি আরো বিস্তৃত হয়। পেরাক, সেলাংগার, সেম্বিলান ও পাহাং একত্রিত হয়ে গঠিত হয় ফেডারেট মালয় স্টেটস-সংক্ষেপে এফএমএস।
১৯০৯ সালে সিয়ামিজ তাদের কেদাহ, পারলিস, কেরাস্টাল ও টেরোংগানুর অধিকার বৃটিশদের কাছে হস্তান্তর করে। জোহর এদের সাথে যোগ দেয় ১৯১৪ সালে। তবে এরা কেউই ফেডারেশনে যোগ দেয় নি নিজেদের অস্তিত্ব বিলোপ করে। ১৯১০ সালের দিকে এই অঞ্চলে অন্য একটি ঘটনা ঘটে। শুরু হয় রাবার চাষ। এ সময় শ্রমিক হিসেবে ব্যাপকভাবে ভারতীয়দের অনুপ্রবেশ ঘটে। অন্যদিকে ১৮৮৮ সালে সরওয়ার্ক, ব্রুনেই ও সাবাহ বৃটিশ আশ্রিত রাজ্য হিসেবে বৃটিশদের অধীনে আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও সময় ১৯৪১-৪২ সালে মালয় ও বোর্নিও অঞ্চল জাপানীরা দখল করে নেয়। ১৯৪৪ সালে জাপানীরা আত্মসমর্পন করার আগ পর্যন্ত দেশটি শাসন করে তারাই।
(চলবে———–)
