সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৮৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন)

(গত পর্বের পর) : স্মৃতির পাতায় নজরুল : বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে আসানসোল মহকুমায় জন্ম নিল এক স্বপ্নের রাজকুমার। এ ঘোড়াশালে ঘোড়া ছিল না। হাতিশালে হাতি ছিল না। ছিল না কোন পাইক পোয়াদা। তবুও স্বপ্নের শাহজাদা। ধর্মের সাথে মানবতার প্রগতিশীল সমন্বয় সৃষ্টির অগ্নিশিখা। যুগে যুগে বীণার ক্ষুরধার বাণীর সেই মহান ব্যক্তিত্বের নাম কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি এক অভিনব প্রতিভার স্বাক্ষর। মানব সমাজের সমগ্র ইতিহাসই হচ্ছে শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। সংগ্রামী চেতনার উদ্ব্দ্ধু কাজী নজরুল ইসলামের জীবন সমীক্ষায় ‘সাম্যবাদ’ একটি যুগান্তকারী প্রত্যয়। বাংলা সাহিত্যের ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ অগ্নিযুগের অগ্নিপুরুষ নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী অধিকতর স্পষ্ট।
কবিতা
বল বীর,
চির উন্নত মম শির
এমনি করে তরুণ দলকে ডাক দিলেন কে? এমনি উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান জানালো কে? সেই বীর পথের দিশারী তার গানের সুরের ছন্দে ছন্দে শুধু তরুণ কেন? আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা, দুর্দম কুঁচকাওয়াজের তালে এগিয়ে চলার জন্য চঞ্চল হয়ে উঠল।
কবির কবিতা-
চল চল চল
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল।
নি¤েœ উতলা ধরণী তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল, চলরে চলরে চল।
বাংলা সাহিত্যে দেখছি শাসক এবং সামন্ত শ্রেণীর আস্ফালন। অপর পক্ষে শোষিত শ্রেণীর দুরাবস্থা। এই অপাংক্তেয়দের অনাদৃত জীবনের সুষমাও গরিমার দিকে আলোকপাত করে আমাদের দুষ্টিভঙ্গিকে যিনি এনে দিলেন বিরাট পরিবর্তন। তিনি প্রগতি সাহিত্যের উদ্বোধক কাজী নজরুল ইসলাম।
কবির সাম্যবাদী কবিতা-
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রেম জীবন সম্পর্কে ব্যাপক কিছু না জানা গেলেও তাঁর কিছু প্রেমের কবিতা, প্রেম পত্রাদি ও নজরুলের জীবনী, কবিদের লেখা বিভিন্ন কথা ধরে নেওয়া যায় যে, নজরুলের জীবনে প্রেমাংশ একেবারেই তুচ্ছ নয়। বিভিন্ন গান ও কবিতার তথ্যাদি সহজেই অনুমেয় নজরুল একজন প্রেমের পুঁজারী, প্রেমের একজন তীর্থযাত্রী।
কবির গান-
চৈতালী চাদনী রাতে তিন্নি।
সেই চির নির্ভীক সৈনিক, আবার শিশুর মতন সরল। বাংলার বুলবুল আজ বাংলার মাটিতে চির শায়িত। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের সেই আকুল আবেদন আমরা এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলতে পারি না। দুর্যোগ মুহূর্তে আমরা যেন সাহস না হারিয়ে ফেলি, উদ্দম না হরিয়ে ফেলি, বাহুতে নবীন বল নিয়ে মনের ক্লান্তি ভয় দূরে সরিয়ে যেন এগিয়ে যেতে পারি। তাই তিনি কান্ডরীকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে গেছেন।
কবিতা-
দুর্গম গিরি কান্তার মরু
দুস্তর পারাবার
লঙ্গিতে হবে রাত্রি নিশিথে
যাত্রীরা হুঁশিয়ার।

বাংলা ১৪০০ সালকে বিদায় জনিয়ে ১৪০১ সালকে সাদর সম্ভাষণ : ধারা বর্ণনা : তৃষ্ণার্ত সুর্যনীলিমার আকাশে একরাশ আবির ছড়িয়ে রবি ঠাকুরের আকাঙ্খিত ১৪০০ সালকে বিদায় জানিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি আজ এক নব কুঞ্চিত কাঞ্চনের গগনে মেঘলায়।
কবিত-
আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছ বসি
আমার কবিতাখানি কৌতুহল ভরে।
১৪০১ সাল- আজ বিজয়ের মহালগ্নে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন জগতের সেই স্বপ্নালী মাঝিদের গান শুনি। আর নববর্ষের এই শুভদিনে ভেসে বেড়াতে দেই মনের রাজহংসকে। জীবনানন্দের সবুজ বাংলায়, মধুসূদনের কপোতাক্ষ, নজরুলের বিদ্রোহী পান্ডলিপি, রবি ঠাকুরের এস হে বৈশাখ।
গান- এস হে বৈশাখ…
যদিও আমাদের জীবন অনিয়মের লাল সুতোয় বাঁধা ছিল। আজ আমরা কামনা করছি মহাকালের আবর্তন থেকে তুলে আনব আমাদের জীবনের নতুনধারা। যেখানে রচিত হবে কাব্য, সাহিত্যে, গানে, নৃত্যে আমাদের জীবনের জয়গান।
গান- হৃদয় আমার নাচেরে…
ছয় ঋতুর রঙ্গালয় আমাদের বাংলাদেশ। একের পর এক তাদের আগমন। অভিনব তাদের অন্তর্ধান। আমাদের করে দেয় চকিত, বিস্মিত ও হতবাক। কত বিচিত্র তাদের বেশভূষা, কত বিচিত্র তাদের অভিনয়। কোন অদৃশ্য শিল্পীর দক্ষ পরিচালনায় তারা এসে আবির্ভূত হয়। মাধবী ফুলের সমারোহে, মাধবী ফুলের ¯িœগ্ধ সুরভিতে আকুল হয়ে প্রিয়া কাছে ডাকে মাধবীকে হে মাধবী দ্বিধা কে? কলম্বাস বহুদিন পূর্বে আমেরিকা আবিষ্কার করে ছিলেন, আর আমাদের ফুলের মত শিশুরা দেশের বৈশাখ মাসের নদী, জৈষ্ঠ্যের ঝড় তার কিছু গবেষণা কওে বহু ছড়া কেটে এরই মধ্যে অনেক কিছু আবিষ্কার করে আপনাদের শুনাতে চায়।
নতুনের জয়গান : নতুন তুমি বুঝি এলে? আমি যে কত যুগ যুগ ধরে তোমার অনাগত পথের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আজ তুমি সত্যি আসছ? চৈত্রের উদাস করা ঝরাপাতা ঝরে গেল। নবীন মঞ্জুরীতে ছেয়ে গেল। বনবনান্তর বৌ কথা কও, পাখী ডেকে উঠে নতুন তুমি আজ এলে?
শহরের পাগল করা কোলাহলের বিরক্তি থেকে অনেক দূরে শান্তির নীড় রচনা করে সাগর। সাগরের উদামতী যৌবনকে উথাল করে তোলে, কাছে পেতে চায় প্রিয়াকে নিবিড় আলিঙ্গন ও চুম্বনের মাঝে। আকাশের পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘগুলি যক্ষের কাছে ছুটে চলে যায় প্রিয়ার বার্তা হয়ে মানস সরোবরে।
প্রেমের জয়গান : হালকা কুয়াশা আর বিন্দু বিন্দু জলে ঊষা শিশির শারদ প্রভাতের জ¦লন্ত উপহার। কোন বিরহিনীর বেদনার্ত হৃদয়ের ঝরে পড়া অশ্রুকণা দুর্বা ঘাসের পাতায় পাতায় মুক্তা ফল যেন পরিপূর্ণ যৌবন নদী প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর খরখর বেগে প্রিয় সন্নিধানে।
প্রেম অবিনশ^র, প্রেম চিরন্তন, প্রেম চিরশ^াশ^ত, তুমি আমার সব, তোমাকে পেলে আমার আর কিছুই চাই না। কেউ তোমার কাছাকাছি যেতে পারে না। আমি জীবন থেকে যাচাই, সবই তুমি একাই আমাক দিতে পার। তুমি সবার সেরা, তোমার তুলনা নেই।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।