জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৮৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন)
(গত পর্বের পর) : দিলারা মেসবাহর সবর্ধনায় বক্তব্য : (বনলতা সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে) : উপস্থিত সুধী মন্ডলী ও বনলতা সাহিত্য পরিষদের লেখিকাবৃন্দ। আছছালামু আলাইকুম। আপনারা আমাকে এই দিলারা মেসবাহ সম্পর্কে কিছু বলার সুযোগ দিয়ে আমাকে গৌরবান্বিত করেছেন। আমি যতটুকু জানি দিলারা মেসবাহ নবযুগের একজন সুলেখিকা। তার উপন্যাসের নাম স্বপ্নলোকের চাবি। মনে হয় বেশ রোমাঞ্চ আছে। আছে অনেক ভালবাসা, ভাললাগার কথা, হয়ত আর এক জনের রূপকথা।
খোঁপা চোপা রম্য রচনা, বেশ হাসি তামাশার কথা, লোককে হাসাতে পারা সে এক গুণের কথা। বইগুলো আমি পড়ে দেখিনি, তবে তাঁর কথায় মনে হলো সে এক চিন্তাশীল মনোবিজ্ঞানী। তাঁর সাথে আমার ফোনে যতদূর কথা হয়েছে। আমি তাকে সংবর্ধনা দিতে চাইলে সে কিছুতেই সংবর্ধনা নিতে চায় না। আমি ওমর খৈয়ামের দৃষ্টান্ত দিয়ে বললাম, নগদ যা পার হাত পেতে নাও, বাকির খাতা শুন্য থাক।
আমি আশা করি, এই নবীন তরুণীরা অদূর ভবিষ্যতে নতুন সাহিত্য সুষ্টি করে দেশকে স্তম্ভিত করে দিবে। তখন হয়ত আমি থাকব না। অনেকে থাকবে না। পৃথিবীর পট পরিবর্তন হয়ে যাবে। তখন থাকবে শুধু স্মৃতি আর ভালবাসা। এ বনলতা সাহিত্যাঙ্গনে এসে আমি যেন কোন প্রেম কাননের কুসমিত যৌবন লালিত্য ভরা এক প্রেম সাগরে অবস্থান করছি। আমার হৃদয়ে আনন্দে আর ধরে না। আমার আশা বনলতা সাহিত্য পরিষদ চিরদিন বেঁচে থাকুক এবং সাহিত্যকগণের মনে নতুন অনুপ্রেরণা জাগ্রত করুক। এই আশা ও প্রত্যাশা রেখে আমি বক্তব্য শেষ করছি।
পঞ্চদশ শতাব্দী/রবীন্দ্র ও নজরুল জন্ম জয়ন্তী উদযাপন
(শেষ বয়সে অন্তিম সন্ধিক্ষণে লেখা)
আরা বর্ণনা
১। বাংলা বারটি ঋতুর সাথে আমাদের মনের ও প্রাণের যোগাযোগ আছে। আমাদের রক্তের সম্বন্ধ বর্ষায় বর্ষা মঙ্গল, শরতের শারদীয় উৎসব, পৌষে পৌষে মেলা, ফাল্গুন-চৈত্র বসন্ত উৎসব, বৈশাখে নববর্ষ আমাদের হৃদয়ের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে স্মরণ করিয়ে দেয় বর্ষ বরণের কথা, শতবর্ষের কথা- কবিতা আজি হতে শত বর্ষ পরে, আবৃত্তি করেন- মণীষ দত্ত।
২। পলাশ ফোটার পালা, পারুল, কাঞ্চন শাখা প্রায় দেউলে, কেবল শালের বিথীকা ভরে উঠছে মঞ্জুরীতে। আজ বিজয়ের শুভ লগ্নে দাঁড়িয়ে মহালগ্নের শতাব্দীর স্বপ্ন জীবনানন্দের সবুজ বাংলার, বনলতা সেনের দারুচিনি দ্বীপের দেশে পঁচিশে বৈশাখে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে একজন বিশ^কবি আমাদের দেশে জন্মে ছিলেন। তিনি হলেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
গান- হে নতুন দেখা দিক … আর একবার নতুন করে।
৩। যদিও অনিয়মের লাল সুতোয় আমাদের জীবন বাঁধা ছিল। আজ আমরা কামনা করছি মহাকালের আবর্তন থেকে তুলে আনব আমাদের জীবনের নতুন ধারা। যেখানে রচিত হবে হাসিতে, খুশিতে কাব্যে, সাহিত্যে আমাদের জীবনের জয়গান।গান-
সেলিনা, ঝরনা,
হৃদয় আমার নাচেরে
ময়ূরের মত নাচে।
আনন্দে খুশিতে ভরা
হৃদয় জোড়া এক মহা আনন্দ।
৪। দুঃখে রবীন্দ্রনাথ, সুখে রবীন্দ্রনাথ, আপলো, ছায়া প্রাণের তন্ত্রীর তারে তারে তাকে আলাদা করি কোথায়? কোথায় নেই তিনি? তবে এটাই ধরে নেবার বিষয় যে, রবীন্দ্রনাথ নিজেই এক মস্ত বড় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ঘরে ঘরে বাদ্য যন্ত্রেও সুরে সুরে সঙ্গীতের অমৃত ধারা। অলিন্দে অলিন্দে টান।
পথে হেঁটে বেড়ায় উপন্যাস, ছোট গল্প, কবিতার ছন্দরূপ।
গান- হে কবি, নিরব কেন?
ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়।
৫। উঠোনে উঠোনে নেচে চলে নৃত্যনাট্য, খোলা ছাদের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ায় প্রবন্ধ, পর্দার ফাঁক দিয়ে মুচকি হাসে নাটক, আর আঙ্গিনায় অশ^ন্থ তলায় খেলা করে, ছড়া কাটে কৌতুক করে হাজার পংক্তি মালার গানের আসর।
গান- আয় তবে সহচরি, হাতে হাতে হাত ধরি-
৬। আনন্দ আছে বলেই শোকের ছায়া, হাসি আছে বলেই কান্নার গভীর অনুরণ, রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন বলেই হয়ত আনন্দের রূপ থেকে দুঃখে, আছে মৃত্যু বিরহ দহন লাগে তবু শান্তি তবুও আনন্দ, তবুও অনন্ত জাগে।
৭। রবীন্দ্রনাথের প্রেমে, রবীন্দ্রনাথ ভালবাসা, চিরভাস্বর হয়ে অসীম অনন্তলোকে বিরাজ করেছেন। প্রেমে অবিনশ^র, প্রেম চিরন্তন, প্রেম চিরশ^াশ^ত। নয়ন সম্মুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই।
যৌথ গান-
সেদিন দু’জনে, দুলেছিনু বনে
কন্ঠে মধুর গান, গেয়েছি সমান তালে
দু’জন দু’জনার, কে কত আপন।
৮। রবন্দ্রিনাথ আমাদের চারপাশে, রবীন্দ্র্রনাথ আমাদের একান্ত কাছের। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ভাবনার পরিসর এত ব্যাপক যে, তাকে সীমার মধ্যে বাঁধতে গেলেই থমকে যেতে হয়। ঐ যে এক বিরাট বৃক্ষ, যে বৃক্ষের পাতায় পাতায় আলোর নাচন হাওয়ার দোলা। রূপ সাগরে ডুব দিয়ে অপরূপ রতন সন্ধানে যে মানুষটি পূর্ব থেকে পশ্চিমের অস্তাচলে পৌঁছেছিলেন তার নাগাল পাওয়া গেছে কি ?
(চলবে————)
