জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৬৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর) : সেদিন ছিল কোন এক অফিসারের ডিনার পার্টি। অপরূপ করে বাড়ীটাকে সাজিয়ে ছিল। প্রত্যেকটি হাস্নাহেনা গাছে দিয়েছিল লাল, নীল, বাল্ব। বাংলোর ডিজাইনের আকারে ঝুলিয়েছিল হরেক রকমের বৈদ্যুতিক আলো। সন্ধ্যা প্রদীপের সাথে সাথে আলোগুলো ফিক ফিক করে হেসে উঠল। আর হেসেছিল সোনার ডালার মত করে শুক্ল পক্ষের সুন্দর চাঁদটা। অসংখ্য অতিথির আগমনে মনোরম ঘরগুলি ভরে গেল। অসংখ্য শাড়ী, চুড়ির রিনিঝিনিতে মনে রঙ্গিন নেশা ধরে গেল। আধো আধো ভাষায় একের প্রতি অপরের প্রীতি সম্ভাষণ চলল বাহিরের ঘরে নানা রকমের মোটা গলার আওয়াজ শোনা গেল। তারা রাজনীতি, সমাজ নীতি, গার্হস্থ্য নীতির বড় বড় কথা বলছে। দেশের উন্নতি, অবনতি যেন তারাই আনতে পারে। এমনি উচ্চাভিলাসী কথা।
মিসেস খাজাও এসে ড্রইং রুমে ভদ্র মহিলাদের সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে বসে পড়লেন। সকলের সাথে নানা রকমের আলাপ আলোচনা করলেন। আবার কতক্ষণ শুনলেন, আবার নিস্তব্ধ হয়ে কি যেন ভাবলেন, মুখটা পাশে ফিরিয়ে সকলের অজান্তে অশ্রুভরা চোখ দু’টো মুছলেন। আবার মনকে সুস্থ্য করলেন। বললেন, ভাই মনটা আমার আজ ভাল নয়, আমাদেরই একটি পরিচিত পরিবার ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া—–তার কাহিনী কিছু কিছু বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, তার ছোট ছেলে নাম তার মুশু আজ চিঠি পেলাম পানিতে পড়ে মারা গেছে।
ভদ্র মহিলারা কেউ শুনল। কেউ শুনল না। আবার কেউ বাঁকা চোখে দেখে রঙিন গল্প পারলেন। তারা তখন দেখছিলেন তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্ন। মুশুর মত একটি অনাথ শিশুর কথা শোনার সময় কোথায় ? অবসরই বা কোথায় ? তবুও মুশুর কথা মনে করে মিসেস খাজা অশ্রুঝরা চোখ দু’টো মুছলেন। অনেক্ষণ চুপ করে থেকে দূরে তারাভরা আকাশের পানে চেয়ে চেয়ে দেখলেন।
দেখলেন মুশু যেন এক ঝাক তারা মাঝে দৌড়া-দৌড়ি করে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কত হাসি খুশি সে মুখখানা, যেন কোন দুঃখ নেই, ক্লান্তি নেই, আছে অজ¯্র আনন্দের ফুলঝুরি। তিনি যেন চিৎকার করে ডাকতে গেলেন, হঠাৎ এক ঝাঁক মেঘ এসে আকাশটা ঢেকে গেল, চাঁদটা ডুবে গেল।
(চলবে—–)
