সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৬৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত সংখ্যার পর) : এতে ডাক্তার সাহেবের ভাই-বোনের বড় আপত্তি ছিল। ৭দিনের মধ্যে মম মেয়েটার মাথা ফেটে রক্তে ঘর ভরে গেল, মুশুটা দিন দিন শুকিয়ে যেতে লাগল। খাজা সাহেবের বাড়ী যেতে ওদের নিষেধ করে দেওয়া হল। তবুও দুপুর বেলা ওদের ফুফু ঘুমিয়ে থাকত, তখন গিয়ে দরজার কড়া নাড়ত আর বলত, জায়ী-জায়ী। জাহিদ খাজা সাহেবের এক ছেলের নাম। মম তাকে জায়ী বলে ডাকত। যখন মমদের বাড়ীতে খুব কাজের চাপ বৃদ্ধি পেত, তখন ডাক্তার সাহেবের বোনটা ছোট ছেলে-মেয়ে দু’টোকে পাঠিয়ে দিত মিসেস খাজার কাছে। মিসেস খাজা তাদেরকে সাদরে গ্রহণ করত। কখন কোন বিরক্ত বোধ করেন নি। ডাক্তার সাহেব টাকা পয়সা ব্যয় করতেন ঠিকই, কিন্তু ছেলে মেয়েদের যতœ নিতেন কম।
ডমষ্টার খাজা এরই মাঝে সিলেট বদলী হয়ে গেল। সিলেট থেকে মাঝে মাঝে গভর্নমেন্টের সাক্ষী উপলক্ষ্যে তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় যেতেন। তখন মম ও মুশুকে দেখার জন্য তাদের বাড়ীতে যেতেন। যাওয়ার সময় ওদের জন্য মজার খাবার নিয়ে যেতেন। ছেলে-মেয়েক আদর করে গভীর ¯েœহে কাছে ডাকতেন। দু’টোকে দু’হাতে কোলে তুলে নিতেন। বলতেন, বলত আমি কে ? মম বলত, চাচা মুশু বলত-তাতা। ছোট মুখের আধো কথাগুলো খাজা সাহেবের বুকে ¯েœহের সমুদ্র তুলে দিত। নিজে পিতা ছিলেন বলে ছেলে-মেয়েদের মর্ম বুঝতেন। বাড়ীর অন্যান্য ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খবর নিতেন। তারপর নিজে নিজে ভাবতেন, কি যেন বলতে চাইতেন, কিন্তু বলতে পারতেন না। মম-মুশুকে আবার কাছে ডাকতেন, বলতেন, আমি আসি চাচা। তোমাদের জন্য লজেন্স আনতে যাচ্ছি। ওরা খুশি খুশি মুখে হাত গুটিয়ে দেখাত এতগুলো আনবা চাচা।
খাজা সাহেব রিক্সায় উঠে রেল ষ্টেশনের দিকে আসতে আসতে ডাক্তার সাহেবের ছবিটা তার চোখের সামনে সিনেমার মত ভেসে উঠত। এত বড় লব্ধ প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, যার নাম শুনে লোকে ধন্য ধন্য করত, যার চিকিৎসায় মানুষের রোগমুক্তি হত, যার টাকা পয়সার কমতি ছিল না, তার ছেলে মেয়েদের আজ এই করুণ পরিস্থিতি। সিলেট নিয়ে মিসেস খাজার কাছে সব বলত। মিসেস খাজা এসব শুনলে তার চোখ ভওে পানি আসত। নিজের ছেলে-মেয়েরা দুঃখ প্রকাশ করত। খাজা সাহেবের বাড়ীটা ছিল পাহাড়ের উচু টিলার উপর। দু’পাশে অসংখ্য বেলি ফুলের ঝাড়, হা¯œাহেনার সারি, কৃষ্ণচুড়ার কেয়ারী আর ছিল অসংখ্য রক্ত গোলাপের গাছ। সিলেটে এত সুন্দর মনোরম বাংলো খুব কম লোকেরই ছিল। সে দিনটির কথা মিসেস খাজার চির জীবন থাকবে। দিনটা ছিল হয়ত শুভ, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে দিনটি ছিল অশুভ।

 

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।