শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আলতাজের রহমান কলেজের আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ভোলায় ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কলেজের হল রুমে এ আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দেশের জন্মলগ্নে শহীদ হওয়া জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণ করা হয়।

আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাহানজেব আলম এর সভাপতিত্বে ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুর রশিদ খাঁন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ এনায়েত উল্লাহ, গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ, জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাবুদ্দিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোসাঃ জোহরা আকতার, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ আনোয়ার হোসেন, প্রভাষক হালিমা আকতার, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক দিলরুবা ফেরদৌস, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোঃ মাহাবুবুল আলমসহ কলেজের সকল শিক্ষক ও অফিস সহকারী বৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশকে মেধাশূন্য করতেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মীসহ মেধাবীদের হত্যা করে। স্বাধীনতার দ্বারপ্রা‌ন্তে দ‌ে‌শের জ্ঞানী গুনীজন‌কে হত্যা ক‌রে সদ্য স্বাধীন দে‌শের পুর্নগঠন‌ে জ্ঞান‌ভি‌ত্তিক সমাজ প্র‌তিষ্ঠার অন্তরায় সৃ‌ষ্টি করাই ছিল এ ন্যাক্কারজনক হত্যাকা‌ন্ডের প্রধান উদ্দেশ্য। ফলশ্রু‌তি‌তে ৫২ এর ভাষা আ‌ন্দোলন থে‌কে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত কিংবা এর আ‌গের দশকগু‌লি‌তে এ ভূখ‌ন্ডে নি‌র্মোহ নি‌র্লোভ যে এক‌টি অগ্রসরমান সমাজ প্র‌তি‌ষ্ঠিত হ‌য়ে‌ছিল তাতে ভয়ানক ছেদ প‌ড়ে‌ছে। পরবর্তী সম‌য়ে দ‌ে‌শে বাম ডান মধ্যম সু‌বিধাবাদী সম্প্রদায় গ‌ড়ে উ‌ঠে। যেখা‌নে ৭১ পূর্ববর্তী প্রগ‌তিশীল সুশীল সমা‌জের ছাপ অ‌নেকাং‌শেই পাওয়া যায় না।

এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ওবায়েদুর রহমান ও পবিত্র গীতা পাঠ করেন ভূগোল বিভাগের প্রভাষক রাম কৃষ্ণ বণিক। পরে দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দেয়া বুদ্ধিজীবীসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মুহা. সিরাজুল আলম।

প্রসঙ্গত ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিধনে মাঠে নামে। রাতের অন্ধকারে বাসা কিংবা কর্মস্থল থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে তারা শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। দেশের নানা জায়গায় হত্যাযজ্ঞ চললেও মূল হত্যাযজ্ঞ চলে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। সেই থেকে ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।