ভোলায় বিজেপির উচ্ছ্বাস: খেয়াঘাট চৌরাস্তায় পথচারী ও স্থানীয়দের মিষ্টি বিতরণ
ঋণের টাকা পরিশোধ করতে সন্তানকে বিক্রি করলেন মা

ফুঁটো টিনের উপর পলিথিন দিয়ে একমাত্র ঝুঁপড়ি ঘরে দুই ছেলে হাসান ও রাসেলকে নিয়ে কৃষি কাজ করে সংসার চালান বুদ্ধি প্রতিবন্ধি হাসিনা বেগম। করোনাকালে মাঠে কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েন তিনি। সংসার চালাতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা ঋণ করেন তিনি। সেই ঋণ পরিশোধ করতে মাত্র ২০ হাজার টাকায় নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার হাসিনা বেগম (৩৫)। হাসিনা আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টেপারহাট গ্রামের জোকতার আলীর স্ত্রী। তিনি একই এলাকার তালুক হরিদাস নয়াটারী গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের মেয়ে।
জানা গেছে, হাসিনার সাথে জোকতারের ২০ বছর আগে বিয়ে হয়। কিন্তু হাসিনা ছিল জোকতারের দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের কিছু দিন স্বামীর বাড়িতে থাকলেও পরে তার ঠাঁই হয় বাবার বাড়িতে। সংসারের খরচ বহন না করলেও স্বামী সম্পর্ক রেখেছিল হাসিনার সাথে। এরই মাঝে তার সংসারে এক মেয়ে ও দুই ছেলের জন্ম হয়। ইতিমধ্যে বড়মেয়ে রোসনার বিয়েও দেন।
মঙ্গলবার সকালে হাসিনা একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান প্রসব করেন। অভাবের মাঝে সন্তানকে প্রতিপালনের চিন্তায় পড়েন তিনি। তবে তার ভাই নিঃসন্তান কেরামত আলী বোনের সন্তানকে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রতিবেশী অধির চন্দ্র তার শ্বশুর বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকার জনৈক দম্পতিকে সন্তানটি দিতে বলেন। এতে বাঁধা দেন হাসিনা বেগম ও তার বড় ছেলে হাসান।
অধির চন্দ্র রাজারহাটের ওই দম্পত্তির হাতে নবজাতককে তুলে দিতে হাসিনার স্বামী জোকতার আলীকে ম্যানেজ করেন। এতে হাসিনা ও তার ছেলে রাজি না হলেও জোকতার ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জোরপূর্বক সন্তানকে তুলে দেন রাজাহাটের দম্পত্তির হাতে। নবজাতক ভাইকে আটকানোর চেষ্টা করে বাবার গালমন্দের শিকার হন হাসান। নবজাতক বিক্রির টাকায় ঋণের ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন হাসিনা। কিন্তু নাড়ি ছেড়া ধন হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
হাসিনার বড় ছেলে হোটেল শ্রমিক হাসান বলেন, কষ্ট হলেও ভাইকে বিক্রি করতে নিষেধ করায় বাবা আমাকে ত্যাজ্য করার হুমকিসহ মারপিট করার চেষ্টা করেছে।
হাসিনার ভাই কেরামত আলী বলেন, বিয়ের ১০ বছর অতিবাহিত হলেও আমাদের সংসারে সন্তান নেই। ইচ্ছা ছিল বোনের সন্তানকে নিতে। কিন্তু বোনের স্বামী টাকার বিনিময়ে নবজাতক ভাগিনাকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন।
হাসিনা বেগম বলেন, গরিব মানুষ খাবার পাই না। প্রতিবেশী অধিরের আত্মীয়ের কাছে দিয়েছি। তারা ভালভাবে দেখবে। আমাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। তার মধ্যে গতকাল ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক রোখসানারা মুক্তা বলেন, মূলত অভাবের কারণেই নবজাতককে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন হাসিনা বেগম। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছি। তাকে আর্থিক সহায়তা করলে মাতৃত্ব বিক্রি করতে হতো না।
