সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৩৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন)

(গত সংখ্যার পর) : জোনাকীর অবস্থা খারাপের কথা শুনে কাজল তাকে দেখতে এসেছিল। কাজল এসে বাহিরে বসেছিল। সাব রেজিষ্ট্রার সাহেব তাকে জোনাকীর কাছে ডেকে এনেছিলেন। জোনাকী তাকে দেখতে পেয়ে লজ্জায় মাথায় ঘোমটা টেনেছিল। সাব রেজিষ্ট্রার সাহেব এ দৃশ্য দেখতে না পেরে উঠে চলে গেলেন।
দিনদিন জোনাকীর অবস্থা খারাপের দিকে চলল। অসুস্থ্যতার মেয়াদ তখন ১৮ দিন হবে। ডাক্তার বলে গেল আজ একটু ভাল মনে হয়। জোনাকীর একটু ঘুম এসেছিল। কাজল কাছে কোন দীঘীতে গোসল করতে গিয়েছিল। জোনাকী মা মা করে ডেকে উঠল- মা দৌড়ে এলেন কি মা ? যে মেয়ে ১০ দিন কথা বলে না, সে ডাকছে কি আনন্দ। আনন্দ আর ধরে না। মা দৌড়ে এলেন জোনাকী দূরে জানালার দিকে কি যেন দেখিয়ে দিল। মা বলল, কৈ আমিত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। জোনাকী ছেলে মানুষের মত মুখ লাকালো। মা মুখ টেনে তুললেন, দেখল চোখের মনি ঘুরছে। মা চিৎকার করে কেঁদে উঠল। বাবা দৌড়ে এলেন, তিনি তখন খবরের কাগজ পড়ছিলেন। মা মেয়ের মুখে একটু পানি দিলেন। মায়ের হাতে শেষ পানি খেয়ে জোনাকী শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ল।
কাজল তখন কেবল দীঘিতে নাইতে নেমেছে। এমন সময় খবর পেল জোনাকী শেষ নিঃশ্বাস ছেড়েছে। সে গোসল না সেরে ভিজা কাপড়ে চলে এলো, দেখলো মা-বাবা দু’জনই জোনাকীকে কোলে করে দু-পাশে দু’জন শুয়ে আছে। সাব রেজিষ্ট্রার সাহেবের চিন্তা ভেঙ্গে গেল। না-না একে নিও না খোদা একে ফিরিয়ে দাও- রেজা ছিল সামনে দাড়িয়ে তাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, তুমি ওকে বাঁচিয়ে তুলো বাবা, ওকে বাঁচিয়ে তুলো- রেশমীর এক মামাত ভাই থাকত ওদের সঙ্গে। নাম তার বাঁশী, খুব কেঁদেছিল রেজাকে ধরে।
রেজা প্রাণপণ খেটে রাত দিন রেশমীর তদারকি ও সেবা কের চলল। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরে এলো রেশমী অবাক হয়ে রেজার দিকে তাকিয়ে থাকে। আর ভাবতে থাকে। প্রথম যেদিন অজ্ঞান হয়েছিল সেদিন সকলের কান্নাকাটি পড়ে যায়। এমতাবস্থায় কেথা থেকে যেন একজন সন্ন্যাসী এসেছিল। সে এসে জিজ্ঞাসা করেছিল এ বাড়ীতে এত কান্নাকাটি কেন ? সকলে বলেছিল এ বাড়ীতে একটি মেয়ের অসুখ। সন্ন্যাসী রেশমীকে দেখতে চেয়েছিল। দেখতে এসে রেশমীকে ঝাড়ফুক করল। যাওয়ার পথে বলে গেল ‘ঘাবড়াও মাৎ’। তারপর সেবা ও যতেœ রেশমী বেঁচে উঠেছিল।

(চলবে——)।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।