লালমোহনে অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ভোলায় ”স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

কোস্ট ট্রাস্ট, সিএফটিএম প্রকল্পের জলবায়ু ফোরাম, স্থানীয় প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ”স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক অনলাইন নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বোরহানউদ্দিন বেতুয়ার খাল রক্ষায় স্লইচ গেইট নির্মাণ, সমন্বিতভাবে খাল খনন ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবী তোলেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনা ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক রাশিদা বেগম। সংলাপে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আবদুল মালেক মিয়া, ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিভিশন-১ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আশিকুর রহমান এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক।
এতে বক্তব্য রাখেন টবগী, ৪নং ওয়ার্ড, ইউপি সদস্য মোঃ নুরুল আমিন, জেলা জলবায়ু ফোরাম সদস্য নেয়ামত উল্যাহ ও বোরহানউদ্দিন জলবায়ু ফোরাম সাঃ সম্পাদক মোঃ হারুন-অর-রশিদ। কোস্ট ট্রাস্ট, সিএফটিএম প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার রাজিব ঘোষ মূল পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করে।
এতে স্থানীয় বক্তাগন বেতুয়ার খালের হাকিমুদ্দিন অংশে মাছচাষের জন্য ইজারা নিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে রাস্তা-ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়ে অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষন করে । খালটির উপর খাসমহল মাছঘাট এলাকায় স্লইচ গেইট না করে বেড়িবাঁধ নির্মানের ফলে খালটি জলাশয়ে রুপান্তর হয়েছে। আর এসুযোগে স্থানীয়রা খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে খাল পলিজমে খাল ভরাট হয়ে বর্ষা মৌসুমে লোকালয় ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে বলে জানান।
তাদের দাবী (১) খাল ইজারাদারের মাধ্যমে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘর মেরামত ও বৃক্ষরোপন করতে হবে। (২) খাসমহল মাছ সংলগ্ন বেড়িবাঁধের উপর স্লইচ গেইট নির্মান।
(৩) বেতুয়ার খালে অবৈধভাবে দেয়া বাঁধ, ছোপ অপসারণ ও সমন্বিতভাবে খাল খনন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হোক।
সংলাপে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিভিশন-১ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আশিকুর রহমান তথ্যচিত্র উপস্থাপন করে বলেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা নদীভাঙ্গনের ফলে দিনদিন ছোট হয়ে যাচ্ছে।আমরা বর্তমানে চেষ্ঠা করছি স্থায়ীবাঁধ নির্মানের। বেতুয়ার খালটি মেঘনা নদীর নিকটে হওয়ায় বাঁধটি দেয়া হয়েছে। তবে আমরা স্থান পরিদর্শণ করে স্লইচ গেইটের সম্ভবতা যাচাই করবো।আর কেউ খালের ভিতর কোনো ধরণের স্থাপনা নির্মান বা পানি প্রবাহে বাধাসৃষ্ঠির কাজ করতে পারবে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, খালে পানির প্রবাহ ও গভীরতা না থাকলে বর্ষামৌসুমে লোকালয় ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়। আবার সেচের সময় পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। তাই সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে খাল খননের উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা সকলেই একাজে সহায়তা করবো।পরিদর্শন সাপেক্ষে স্লইচ গেইট নির্মানের উদ্যোগ নিতে হবে। কারন পানির প্রবাহ সৃষ্ঠি করতে হলে স্লইচ গেইট অবশ্যই প্রয়োজন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আবদুল মালেক মিয়া বলেন, ইজারাদারের হতে খাল খননের কারণে যা ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ আদায় ও ইজারা বাতিলের জন্য আমি উধ্বর্তনের নিকট চিঠি দিব। কোনো অবস্থায় জলাশয়ের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করতে পারবেনা। পরিবেশ অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে অবৈধ স্থাপন, বাঁধ দেয়ার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো।
সঞ্চালক রাশিদা বেগম তার বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় জনগনের মাধ্যমে সমস্যা গুলো উপস্থাপন করলাম।যাতে আগামীদিনে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এখনি প্রস্তুত হতে পারি।
