যুগল সাফল্যে বোরহানউদ্দিনে উপসচিব হলেন পীযূষ চন্দ্র দে ও শুভ্রা দাস
জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৩৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর), নন্দকুজা : নন্দকুজা নামটা কেমন যেন একটা মোহ আছে। নামটা শুনতেই ভাল লাগে। কেন, জানি না। চুম্বকের মত নিবিড় আকর্ষণে মনটাকে আমার কাছে টেনে নিতে চায়। যেন কত যুগ-যুগান্তরের বন্ধুত্বের গাঢ় পরিচয় তার সাথে আমার। অথচ কোন দিনই আমি একবারও চোখে দেখিনি। শুধু আমার এক বন্ধবীর কথায় পিকনিকের জন্য মেতে উঠলাম।
এ কয়দিনের পিকনিকের প্রস্তুতির জন্য ক্লান্তি, শরীরের শ্রান্তি, জিনিসপত্র কেনাকাটার হাঙ্গামা, চাঁদা তোলার বিরক্তি, পথে পাড়ি দেবার কালে বান্ধবীদের মনোরঞ্জন করার লৌকিকতা কাটিয়ে শান্ত মনে নন্দকুজার পথে পাড়ি জমালাম। পথে যেতে যেতে ফাল্গুনের ঝরাপাতার দিনের শিমুলের সমারোহ আমাদের হাতছানি দিয়ে অভিনন্দন জানাল। আ¤্র মুকুলের গন্ধে মনপ্রাণ কেমন উদাস হয়ে উঠল। কুহুকুহু রবে বনের কোকিল বনে বনে ডেকে উঠল। এক ঝাঁক বলাকা আমাদের মত নিরুদ্দেশের পথে পাড়ি জমাল। হয়ত ওরাও আমাদের মত কোন নন্দ কাননের কুঞ্জপথে পাড়ি জমিয়েছে। ফাল্গুনের বনে বনে লেগেছে রংয়ের আগুন। সে আগুনই আমাদের মনে ঢেলেছে হোলির আবির।
দীর্ঘ পথের ক্লান্তি নিয়ে নন্দকুজার তোরণের দুয়ারে আমাদের মটর এসে থেমে গেল। এখানেই আমাদের ক্লান্তির টারমিনাল। কেমন যেন পরিশ্রম, ঢুলুঢুলু চোখে নন্দকুজার পানে একবার চেয়ে দেখলাম। ভরা যৌবনের অনন্ত রূপরাশি নিয়ে সে আমাদের অভ্যর্থনা জানাল। ভাদ্রের ভরা নদীর মত তার উচ্ছ্বাস বসন্তের আবির সমারোহ তার দেহে, যৌবনের কানায় কানায় তার কত আকুলি, ব্যাকুলি, কত কথা, কত ব্যথা, কত প্রেমের পুজার অঞ্জলী তার দু’হাত ভরা। ছোট্ট একটি বাংলো, ছোট্ট একটি পার্ক, পার্ক ভরে আছে অনেক রজনীগন্ধার ঝাড়। অনেক গোলাপের কেয়ারী। আর পার্কের এক কোণে ফুটেছিল একটি রক্ত গোলাপ। অদ্ভুত সে গোলাপ আর অনুপম সে সুন্দর। প্রথম ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই গোলাপটি আমার চোখে পড়েছিল। ভেবেছিলাম যতক্ষণ থাকব, ততক্ষণ ও থাকবে আমার পাশে। কিন্তু ৫ মিনিট পরে দেখলাম গোলাপ আর গাছে নেই। বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল। দেখলাম একটা মেয়ে হাতে হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বলতে পারলাম না বুকের মধ্যে একটু কষ্ট অনুভব করলাম।
পার্কের আশেপাশে অনেক কাঠাল গাছের সারি সেই ছায়া ঘেরা মায়াভরা গাছের নীচে রান্নার যোগাড় আরম্ভ করলাম। নন্দকুজার সি.এন্ড.বি’র স্টাফরা আমাদের চা খাওয়ালো। একজন দারোয়ান অনেক দিন যাবত এখানেই আছে। ও নাকি আমরা আসব জেনে ডাক বাংলোর ট্যাংকে অনেক পানি তুলেছিল। এখন নাকি একটু পানিও নেই। চিনিও নাকি অনেক এনে রেখেছিল, তাও নেই। এক জিন সাহেব নাকি এখানে থাকেন। তিনি সারা রাত নামায পড়ে পড়ে পানি খরচ করে সেই জীন সাহেবও চিনিগুলি খেয়ে গেছেন। আল্লাহ জানেন, এটা শোনা কথা।
(চলবে————–)
