সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৩৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন)

 

(গত সংখ্যার পর) : দুর্বৃত্তরা একখানি চাঁদ এনে রাখল কুমারের শয্যায়। পৃথিবীর সব জ্যোৎস্না এসে ভিড় করল কুমারের ঘরে। কুমার ব্যাকুল হয়ে উঠল- এত সুন্দর, এত নিখুঁত। এ যে ভগবানের নিজ হাতে সৃস্টি, কুমার আস্তে আস্তে গিয়ে কৃষাণীর মুখের বাঁধন খুলে দিল। অনিমেষ নয়নে তাকিয়ে থাকল তার মুখের উপরে। যেন কতগুলো যুগান্তরের ইঙ্গিত সে মুখ কত বাসরের রাতজাগা সে স্বপ্ন। সে যেন জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছিল।
হঠাৎ কৃষাণীর আর্তনাদে কুমারের ধ্যান ভঙ্গ হল- আমি কোথায় ? কুমাল বলল, তুমি আমার কাছে। কৃষানী আক্রোশে ফেটে পড়ল- কেন ? কেন আমি এখানে ?

কুমার এগিয়ে এসে বলল- আমার কাছে থাকবে বলে। কি বললে ? বলে উঠে সরে দাঁড়াল। কুমার দু’বাহু দিয়ে জড়িয়ে ধরতে গেল তাকে, কৃষাণী ছুটে গিয়ে জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়ল। কেউ জানল না, কেউ শুনল না, কেউ দেখল না। শুধু নিস্তব্ধ রাজপুরি একটা বিরাট আর্তনাদে ভরে গেল। সারা মহল বিরাট অট্টহাসিতে কেঁপে উঠল। না……না…..না……। গগণচুম্বী সে চিৎকার রাজ মহলে রাজমাতা জাগে, জাগে রাজা বাহাদুর, জাগে রাণী বৌমা।
ভোর না হতেই রাজকুমারের নামে রাজদরবারে আসে বিরাট অভিযোগ। প্রজারা চায় বিচার, রাজা বিচার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। একদিন, দু’দিন, তিনদিন। রাজপুরি নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রাজপুরি শূন্য- কেউ কোথাও নেই- শুধু সিংহ দরজার কাছে রাজা দিঘাপতিয়ার মর্মবিদারক মুর্তিটা পড়ে আছে।

 

 

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।