সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৩৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন)

(গত সংখ্যার পার) : গ্রাজুয়েট বেকার (এম. আর) : দেশে শিক্ষিত গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান অপ্রতুল। যার প্রেক্ষাপটে অনেক গ্রাজুয়েটকে টিউশনির দ্বারহস্ত হতে হয়। আর এ ক্ষেত্রে প্রায়ই বিজ্ঞাপন লক্ষ্য করা যায় পড়াইতে চাই।
ল্যামপোষ্টে এক খানি বিজ্ঞাপন আটা, বি.এ পাস “মানস মোহন কুখোপাধ্যায়” বয়ষ ২৪-২৫ বছর। বিজ্ঞাপনটি তার নোট বুকে নকল করিতে ছিলেন। দুই একজন কৌতুহলী পথিক। ঘাড় উচু করিয়া বিজ্ঞাপনটি পড়িয়া গেল মানস ভরসা নেই বতু টুকিতে লাগিলেন। চোখ বুঝে ঢিল ছুড়ি তো, লাগে লাগবে, না লাগলে পাঁচ পয়সা গেল।
এর চেয়ে মেট্রিকুলেশ পাস করে পড়াশুনা বন্ধ করা ভাল ছিল। তবু এটকা কিছু পাওয়া যেত। পনের, কুড়ি, যা হয়। গ্রাজুয়েট শুনলেই বলে, গ্রাজুয়েট পুষবার টাকা নেই। থাকবে কি করে ? টাকা সব নোট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এত মাইনে তারা দিবে কোত্থেকে ? টাকা চুরি করে দিক, ডাকাতি করে দিক আমার মাস গেলে পকেটে এলেই হলো। প্রথম মাসটা দেখে পরের মাস থেকে নতুন নিয়মে পড়াব। একে বারে ভারতীয় পদ্ধতিতে। বৈকুন্ট সরকারের প্রবেশ-
মানস : নোটবুক দিয়া বিজ্ঞাপনটি আড়াল করিয়া কি চান মশাই আপনি ?
বৈকুন্ট : খাতা সরাও।
মানস : আপনার কি দরকার ?
বৈকুন্ট : বিজ্ঞাপনটা দরকার।
মানস : ওটা রাতের ঔষধ বিজ্ঞাপন নয়, আপনার কাজে লাগবে না।
বৈকুন্ট : ভাল উৎপাত, খাতা সরাও না ? আমাকে আবার তাগাদা যেতে হবে। কর্তার বুড়ো কালে ধেড়ে রোগে ধরেছে, পয়সা বেশী হয়েছে কি না, খাতাটা সরাও না ?
মানস : আপনি কি পাস ?
বৈকুন্ট : সে খোঁজে তোমার কি কাজ হে ছোকরা ? সরাও বলছি। মানসের নোট বুক টানিয়া সরাইয়া এইটা সেইটা দিয়ে তার পরে ভাল করে লেখ। এভাবে কাগজটি আটিয়া দিলেন। কাল দিলেন এক বিজ্ঞাপন, আবার আজ পাঠালেন এক চুটকি। এখন সারা শহর ভরচুট সেটে ভেড়াই আর কি।
মানস : মশাই দাঁড়ান, নমস্কার। আপনার মনিবের স্কুল বুঝি ?
বৈকুন্ট : স্কুল না, বাপের পিন্ডি। বিয়ে করেছ ?
মানস : আজ্ঞে না।
বৈকুন্ট : তবে পিন্ডি গিলতে পারলে না, ঘরের বাছা ঘরে যাও।

(চলবে—————)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।