সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৩১

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত সংখ্যার পর), মিসেস খান ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে শতচ্ছিন্ন, শত জর্জরিত মন নিয়ে নাতনি ও নাতিটিকে কাছে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু পাষন্ড জামািই তাদের রাখা তো দূরের কথা, নানা-নানীর কাছে আসতে দিতে চায় না। কুসুম রোজার প্রথম সপ্তাহে মৃত্যুর শীতল কোলে আশ্রয় নিল। রোজার পর ঈদ উপলক্ষ্যে একদিন ভাঙ্গা মন নিয়ে নাতিদের দেখার জন্য জামাই বাড়ী গেল। বেয়াইন সাহেবের কাছ থেকে দীনহীনের মত চেয়ে নাতি-নাতনিদের ঈদের জামা দিবে বলে গাড়ীতে তুলে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কোথা থেকে যেন জামাই এসে বাচ্চা দু’টোকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল।

মিসেস খানের চোখে দু’টি অসীম স্নেহে, অপরিসীম অপমানে আগুনের ফুলকার মত জ্বলছিল। ছেলে-মেয়ে দু’টি বাবাকে ভীষণ ভয় পায়। মেয়ের ফুলের মত মুখখানা সব সময় হৃদয়ের কন্দরে ভেসে ওঠে। যদি মেয়ের এই কচি বাচ্চা দু’টো কাছে পায়, তবুও শোকাহত হৃদয় একটু প্রশান্তি পায়< তাও নরপিচাশটা দেবে না। ইতিমধ্যে বাচ্চা দু’টো মিসেস খানের বাড়ী এনেছে। ঐ শিশুদের বাবা ওদের জন্য উকিল নোটিশ দিয়েছে। বাচ্চা দু’টোকে নানা-নাতির আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত করে রাখে। বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে যদি কেউ বলে, দুষ্টুমি করো না, তোমার আব্বু বকবে। বাচ্চারা বলে, আম্মুর মত গোসলখানায় দরজা আটকিয়ে মারবে ?

মিসেস খান ডুকরে কেঁদে উঠে- তাহলে ঐ জামাই আমার মেয়েকে কত অত্যাচার, অনাচার, মারধর-গালমন্দ করেছে, কত নির্যাতন করেছে। আমার মেয়ে ধুকে ধুকে নির্যাতনে না টিকতে পেরে মৃত্যুকে স্বাদরে গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশে এত নারী নির্যাতন, নারী হত্যা, নারী ধর্ষণ, নারীর প্রতি অবিচার ও নিষ্ঠুরতার লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলছে তা শুধু গ্রামের নিরক্ষর, অশিক্ষিত ও অর্ধ শিক্ষিত লোকেরাই নায়, বরং সমাজের সু-শৃঙ্খল, উচ্চশিক্ষিত ভদ্রবেশী লোকজনই সবচেয়ে বেশী। যার বাস্তব প্রমাণ কুসুমের নরাধম স্বামী। একদিন যখন মৃত্যু আসবে, যখন তুমি থাকবে না, আমি থাকব না, কেউ থাকবে না, অন্য মানুষ আসবে, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে যাবে। সেই একরাত্রে যখন ঘন ঘন তোপধ্বনির মধ্যে এই শতাব্দির অবসান হইয়া একবিংশ শতাব্দির আগমন ঘটবে তা যেন স্বচক্ষে দেখতে পাই। হে অনাগত যুগ তোমার জয় হোক।

 

(চলবে————)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।