জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-২৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর) কুসুম দুটো ছেলেমেয়ে রেখে গেছে। একটি মেয়ে ও একটি ছেলে। তা-ও মিসেস খানের কাছে আসতে দেয় না। কুসুম আস্তে আস্তে কেমন নির্জীব হয়ে যাচ্ছিল, মার চোখে ধরা পড়ে। মা বলেন, কিরে কুসুম তুই শুকিয়ে যাচ্ছিস কেন ? কুসুম বলে, মা ছেলেটা ও মেয়েটার যন্ত্রণায় একদম বিশ্রাম নিতে পারি না। নিয়ম মত খাওয়া-দাওয়া হয় না। খুব আমার জীবন থেকে হারাম হয়ে গেছে।
মা বললেন, ক’দিন আমার কাছে থেকে একটু বিশ্রাম নে না ? মেয়ে চুপ করে থাকে। মিস্টার খান মেয়েকে বলেন, পিজিতে একটা গাইনী কোর্স চলবে, তমি কোর্সটা কমপ্লিট করে নেও। কুসুম এ ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন করল। মিসেস খান বেয়ানকে বলে মত করিয়ে নিলেন। জামাই তখন সৌদি আরব ইরানে চাকুরীতে ছিল। আসতে হয়ত দু-চার মাস দেরী হবে। মেয়ে পি.জি.-তে ট্রেনিংরত আছে। এর মধ্যে জামাই আসার সময় এগিয়ে এল। মেয়ে চিঠি পেল মাসের ১৮ তারিখে দেশে আসছে। চিঠি অনুযায়ী মিসেস খান মেয়ে নিয়ে রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে জামাইর অপেক্ষায় সময় অতিবাহিত করে। কোথায় জামাই, জামাইকে না পেয়ে মিসেস খান ও কুসুম ফিরে এলো। তার পরদিন জামাই ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরন করে তার বাসায় এসে হাজির হয়।
কুসুম তখন পি.জি.তে টেনিং করার জন্য গিয়েছে। জামাই মুখ ভার করে বাচ্চাদের নিয়ে চলে গেল। কুসুম পি.জি থেকে এসে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক শ্বশুর বাড়ী চলে গেল। পি.জিতে কোর্স করার অপরাধে যা কিছু ঘটেছে কুসুম কোন সময় মুখ খুলে বলে নি। আমরা দূর থেকে অনেকটা অনুমান করা সত্ত্বেও বলতে পারি নি। এরপর ইরান যাবার একটি বিজ্ঞাপন দেখে কুসুম দরখাস্ত করল। ইন্টারভিউ হয়েছে। বেশী ভাল ইন্টারভিউ হয় নি বলে কোন আশা সাহস করেনি। অন্য কাউকে বলে নি। হঠাৎ ইরান থেকে এপয়েন্টমেন্ট পেয়ে কুসুমের বুক আনন্দে ভরে গেল। মাকে এসে বলে, আমি ইরানে চাকুরী পেয়েছি, যেতে হবে। ইন্টারভিউ ভাল হয় নি বলে তোমাদের জানাই নি। এখন বলছি যেতে টাকা লাগবে। আমাকে পনেরো হাজার টাকা দেবে ? মিসেস খান বললেন, দেব।
(চলবে———-)
