জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-২৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর), আমি এখনো আমার বারান্দার ইতি চেয়ারে বসে তেমনি অপলক নেত্রে লাল গেটটার লোহার শিকের ফাঁক দিয়ে অগনিত লোকের গাড়ী ও আসা-যাওয়া দেখি। লোক আরো বেড়েছে। লোকের গাড়ী আরো বেড়েছে। কিন্তু কুসুম ? কুসুম———কুসুম কোথায় ? শুনলাম সকলের মুখে কুসুম অনেক ব্যথা, বেদনার পুঞ্জিভূত মেঘ নিয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগে একটি ছেলে একটি ছোট মেয়ে রেখে মৃত্যুঞ্জয়ীকে জয় করে পৃথিবী ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে।
আমি শুনে হতবাক হয়ে গেলাম। তখন পবিত্র কোরআনের বাণীটুকুর কথা মনে পড়ে গেল, প্রত্যেক প্রাণীই মরণশীল। কিন্তু সুন্দর, কোমল কুসুম অকালে চলে গেল। ওর বিয়ের সময় ওকে আমি কমিউনিটি সেন্টারে দেখেছিলাম। সেই স্মৃতি আজও আমার মনের মুকুরে বার বার দোলা দিচ্ছে। বাবার দেওয়া গহনা ওর শরীর ঢেকেছিল। কপালে শ্বেত চন্দনের আল্পনায় ওকে অপরূপ লাগছিল। লাল বেনারসী পড়া, লাল মসলিনের চুমকির মত করা ওড়নায় ওকে যেন স্বর্গের দেবীর মত লাগছিল।
বরকে তখন ভিতরে ওর পাশে বসানো হয় নি। লজ্জাবতী লতার মত কুসুম আরো লজ্জায় শরমে কুটি কুটি হয়ে যাচ্ছিল। তখন সকলে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। বরকে দূর থেকে দেখলাম, লম্বা পওড়া মিষ্টি মধুর মুখখানা। আচকান, পায়জামায় পাগড়িতে অপরূপ মানিয়েছে।
বরের মঞ্চ অপরূপ সাজানো বন্ধু-বন্ধব তাকে ঘিরে বসে আছে। ওদের রসুমতের সময় পর্যন্ত আমি ছিলাম না। ওটা অল্প বয়সের মেয়েদের পার্ট। ওরাই ওটা সমাধা করবে বলে আমি চলে এসেছিলাম।
মিস্টার নাসিম অনেক গন্যমান্য প্রভাবশালী লোকদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন। প্রত্যেক তার নিমন্ত্রণে স্ত্রী-ছেলে মেয়ে নিয়ে দাওয়াত রক্ষা করেছেন। কত খরচ, কত সাধ স্বপ্ন বুকে নিয়ে কত আশার সৌধ স্বপ্ন রচনা করে মিস্টার নাসিম ও মিসেস নাসিম, মেয়ে বিয়ে দিয়েছে। বছর না ঘুরতেই মেয়ের কোলে নাতি এল। মেয়ে ডাক্তার তখন বোধহয় মেয়ে সবেমাত্র ডাক্তারী পাশ করে পি,জি হসপিটালে ইন্টার্নি করছে। জামাই আর্কিটেক্ট ্ি ইঞ্জিনিয়ার। মেয়ের বাচ্চা রাখার আয়া হিসেবে মেয়ের শ্বশুর শ্বাশুড়ির কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু শ্বাশুড়ী তাদের দিয়ে অন্য কাজ করান বা একটা কারণ দেখিয়ে বিদায় করে দেন। মেয়ের কষ্টের সীমা থাকে না। মিসেস নাসিম সবই বুঝলেন, বলতে পারেন না। মেয়ে শ্বশুর শ্বাশুড়ী, দেবর, ননদ, জা নিয়ে সংসার করে। ছোট বাড়ী, তবুও মেয়ে চোখ বুঝে সেখানে থাকতে ভালবাসে।
(চলবে———–)।
