মনপুরায় জমি নিয়ে বিরোধ, গভীর রাতে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

আব্দুর রহমান সোয়েব : মনপুরা,প্রতিনিধি।।ভোলার মনপুরায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতঘরে হামলা, মারধর, ভাঙচুর এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, বাদীপক্ষের লোকজনই তাঁদের মারধর করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উপজেলার ২ নম্বর হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মনপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম (৩৭)।
অভিযোগে হোসেন (৬০), জাহাঙ্গীর মাস্টার (৭০), সিদ্দিক (৩৫) ও হান্নান (৩০) নামে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে বাদী ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আমেনা বেগমের দাবি, তাঁরা প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন। এ নিয়ে আদালতে দুটি মামলাও চলমান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁদের ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে চলে যান।
আমেনা বেগমের অভিযোগ, ওই ঘটনার জেরে রাত ১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে গুঁড়া মরিচ ছোড়া হয় এবং মারধর করা হয়। এতে তিনি ও মাইনুর নামে এক নারী আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় আমেনা বেগমের স্বর্ণের দুল, নাকফুল ও রুপার হার নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর ঘর থেকে ১০ হাজার টাকা, সিমা নামে এক নারীর ঘর থেকে এক লাখ টাকা এবং আয়েশা নামে আরেক নারীর ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বসতঘরের আসবাবপত্র ও টিনের বেড়া ভাঙচুরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতরা মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা কোনো হামলা করেননি; বরং বাদীপক্ষের লোকজনই তাঁদের মারধর করেছেন। পরে তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। হোসেন বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
