সাড়ে ৩ মাসেও সতেজ রয়েছে মৃত ব্যক্তির কবরে পুঁতে রাখা খেজুরের ডাল; মানুষের কৌতূহল

বোরহানউদ্দিন সংবাদদাতা :: মৃত্যুর সাড়ে ৩ মাসেও সম্পূর্ণ সতেজ রয়েছে মৃত ব্যক্তির কবরের পায়ের কাছে দুই ভাগ করে পুঁতে রাখা একটি খেজুরের ডাল। প্রথম দেখাতেই মনে হবে এটি জীবিত খেজুর গাছের চারা। নতুন পাতার ডাল মেলে আছে। এ চিত্র দেখাযায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বাথান বাড়ী গ্রামে। দুই ভাগ করে পুঁতে রাখা খেজুরের ডাল জীবিত হওয়ার খবর শুনে কৌতূহল বশত বিভিন্ন এলাকার অনেকেই দেখতে আসেন।
পরিবার সূত্র জানায়, গত ১৮ জুলাই ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জালাল উদ্দিন ওরফে জালু চৌকিদার মৃত্যু বরণ করেন। পরে বাড়ীর সামনে কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এসময় তার কবরের মাথা ও পায়ের কাছে ২টি খেজুরের ডাল কেটে দুই ভাগ করে পুঁতে রাখা হয়। মাথার কাছের ডালটি শুকিয়ে নষ্ট হয়েগেলেও তার পায়ের কাছের খেজুরের ডালটি এখনো পুরো সতেজ ও জীবিত হয়ে উঠেছে। যে কেউ দেখলে মনে কবরে এটি জীবিত খেজুর গাছ, যার ডাল মেলে আছে। খেজুরের ডাল জীবিত হওয়ার ঘটনা অলৌকিক নাকি অন্য কিছু? এমন কৌতূহল দেখা গেছে স্থানীয়দের মাঝে।
মৃত ব্যক্তির ছেলে ফিরোজ চৌকিদার জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর প্রতিনিয়তই কবরের কাছে যান। কিছুদিন পর লক্ষ করেন মাথার কাছে পুঁতে রাখা খেজুরের ডালটি শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পায়ের কাছের ডালটি দিন দিন সতেজ ও নতুন গাছের ডালের মতো জীবিত হয়ে যাচ্ছে। যা এখন একটি তরু-তাজা গাছের ডালের রূপ ধারন করেছে। তিনি আরো জানান, সাধারন ভাবেই তারা ডালটি মাটিতে পুঁতে রাখেন। সেখানে পানি, সার কিংবা অন্য কোনো কিছুই দেয়া হয়নি।
স্থানীয় আবুল কালাম, আল আমীন ও ইমরুল সহ অনেকে জানান, এতদিন পরেও খেজুরের কাটা ডাল জীবিত থাকা জীবনে এই প্রথম দেখলাম। এটা সত্যি অবাক হওয়ার মতো বিষয়।
এব্যাপারে ইসলাম কি বলে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি রিয়াজ মাহমুদ সহিহ বুখারির ১৩৬১ নম্বর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সঃ) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বলেন, এই দুই কবরের অধিবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এরপর তিনি একটি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে দুই ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরে একটি করে অংশ পুঁতে দিলেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এমন করলেন কেন? তিনি বললেন, আশা করা যায়, ডাল দুটি শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের শাস্তি কিছুটা হালকা করা হবে। সেই থেকেই মৃত ব্যক্তির কবরে খেজুরের ডাল পুঁতে রাখার প্রচলন রয়েছে। তবে এটা সুন্নত, মুস্তাহাব ও আমল করার মতো কিছুই নয়। সকল সৃষ্টি একমাত্র আল্লাহর। দুনিয়াতে তার অসংখ্য নির্দশন রয়েছে। কবরে পুঁতে রাখা খেজুরের ডাল তেমনি একটি নির্দশন হতে পারে। এটা নিয়ে অতিউসাহী হওয়া উচিত না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মন্ডল জানান, খেজুর গাছের ডাল মাঠিতে পুঁতিলে তা জীবিত বা সতেজ হওয়া কিংবা পূর্নাঙ্গ গাছ হওয়া কখনো সম্ভব না। বিষয়টি শুনে আমার কাছেও অবাক লাগছে। তবে সরাসরি গিয়ে পরিদর্শন করে দেখে আসলে বলতে পারবো।
