নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশ শিকারে নামলেন জেলেরা মাছঘাটে বেচাকেনার অপেক্ষা
নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশ শিকারে নামলেন জেলেরা মাছঘাটে বেচাকেনার অপেক্ষা

মা ইলিশের প্রজনন ও নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে আবারও শুরু হয়েছে মাছ ধরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ইলিশ আহরণে নদীতে নামতে শুরু করেছেন জেলেরা। রুপালি ইলিশের আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন নদীনির্ভর এসব মানুষ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর থেকে নদীতে মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। দীর্ঘদিন পর নদীতে নৌকা ও জালের ব্যস্ততা ফিরে আসায় প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে জেলেপল্লি ও মাছঘাটগুলোতে।
জেলেদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে এবার নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছও পাওয়া যাবে। এতে নিষেধাজ্ঞার সময়ের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ইলিশের প্রকৃত সরবরাহ কেমন হবে, তা জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম কয়েক দিনের মাছ আহরণ ও ঘাটে সরবরাহের চিত্র থেকেই এ বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে নদীতে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় ভোলার বিভিন্ন মাছঘাটে ফিরতে শুরু করেছে কর্মচাঞ্চল্য। জেলেদের পাশাপাশি আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ঘাটশ্রমিকদের মধ্যেও বেড়েছে ব্যস্ততা। মাছের সরবরাহ বাড়লে বেচাকেনাও জমে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ভোলার অনেক জেলে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। বিশেষ করে দৈনিক মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে এ সময়ে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নদীতে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
তবে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেই বাজারে দাম কমবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করবে বাজারদর।
মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
