আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে জেলেদের

নদীতে মাছ ধরায় চলছে নিষেধাজ্ঞা। বন্ধ আয়ের প্রধান উৎস। সংসার চালাতে গিয়ে করতে হচ্ছে ধারদেনা, বাড়ছে ঋণের বোঝা। এমন সংকটের সময়ে সরকারি সহায়তার চালই ছিল ভোলার লালমোহন উপজেলার জেলেদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে এখনো বরাদ্দের চাল পাননি। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন জেলেরা।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। ৭ অক্টোবরের মধ্যে জেলেদের মাঝে এ চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও এখনো তা পাননি ছয়টি ইউনিয়নের জেলেরা।
উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি ও রুবেল মাঝিসহ আরও কয়েকজন জেলে বলেন, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় আমাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। তখন সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সময়মতো চাল না পাওয়ায় ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। ঋণের বোঝা বাড়ছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতেও কষ্ট হচ্ছে। এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে দেনা করে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তার চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন আমাদের সেই চালের জন্যই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সময়মতো বরাদ্দের ওই চালগুলোও না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পড়তে হয়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত হয়েও অনেকে প্রকৃত জেলে হিসেবে সরকারি সহায়তা পান না। আবার চাল বিতরণে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে। লালমোহন উপজেলায় ২৪ হাজারের বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও এবার ২১ হাজার জেলের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালমা, রমাগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে চাল।
