সর্বশেষঃ

সাংবাদিক আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার

বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত পুলিশের উপপরিদর্শক হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বরগুনা জেলা পুলিশ।

পুলিশ সুপারের কাছে করা অভিযোগের পর প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বুধবার উপপরিদর্শক হারুন অর রশিদকে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে তিন থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত। গত রোববার বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিনের আবেদন করা হলে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল।

মামলার শুনানিতে আইনজীবী এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে আইনজীবী মোস্তফা কাদের ও আইনজীবী বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগে ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা বরগুনায় যান। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, “পুলিশ সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে অমানবিক নিপীড়ন চালিয়েছে, তা গোটা দেশের সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।”

তিনি আরও বলেন, সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকায় কয়েকটি হিন্দু পরিবারের জমি দখলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।

তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানো—এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাদীপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর রাতে ভূমিদস্যু সুভাষ ঘোষের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।