চরফ্যাশনে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ট্রলার, গাছে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচলেন ৬ জেলে
পিতৃপরিচয় ও স্বামীর অধিকার দাবিতে ভোলায় সড়ক অবরোধ, গ্রেপ্তারের দাবি

মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ, বোরহানউদ্দিন, ভোলা
সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত ও স্বামীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ভোলার বোরহানউদ্দিনে আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যরপোল এলাকায় ভোলা-বোরহানউদ্দিন আঞ্চলিক মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভুক্তভোগী সাদিয়া, তাঁর একমাত্র ভাই মো. হেলাল উদ্দিন রিজুসহ স্থানীয় শত শত মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা শাহরিয়ার হোসেন মহিন এবং তাঁর আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা মামুন, নীরু ও তাহমিনাসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সাদিয়ার অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শাহরিয়ার হোসেন মহিন তাঁকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।
সাদিয়ার ভাষ্য, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে মহিন তাঁকে বিয়ে না করে আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পাঁচ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। ওই সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি নিজের স্বামীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
সাদিয়ার ভাই মো. হেলাল উদ্দিন রিজু বলেন, আশ্বাস দেওয়ার পরও মহিনের পরিবার তাঁর বোনকে মেনে নেয়নি। তাঁর দাবি, মহিনের মা আফরোজা বেগম ও মামাসহ কয়েকজন তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন।
হেলাল উদ্দিন রিজু বলেন, এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। মামলায় শাহরিয়ার হোসেন মহিন ও তাঁর মা আফরোজা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো তাঁদের আটক করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সাদিয়া ও তাঁর ভাইকে আসামিপক্ষের লোকজন হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। ওই দিনই নিরাপত্তার জন্য বোরহানউদ্দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সাদিয়া ও হেলাল উদ্দিন রিজু।
তাঁদের অভিযোগ, মামুন, নীরু ও তাহমিনাসহ কয়েকজন মহিনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা এবং তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় কয়েকজন বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তাঁরা।
এদিকে, দুই ঘণ্টার সড়ক অবরোধের কারণে ভোলা-বোরহানউদ্দিন আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বোরহানউদ্দিন থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসের পর দুপুর ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ আলী বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ ও মামলার বিষয়টি দেখে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউসার বলেন, “অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”
