মদনপুরের ১৫ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তি উদ্যোগে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স
মদনপুরের ১৫ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তি উদ্যোগে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

ভোলার দৌলতখান উপজেলার বিচ্ছিন্ন মদনপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি উদ্যোগে চালু করা হয়েছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির উদ্বোধন করেন মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট।
নদীবেষ্টিত মদনপুর ইউনিয়নটি উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ভোলা সদর হাসপাতালে নিতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউনিয়নের পাটোয়ারি বাজার, চর বৈরাগী, মধুপুর, চর টগবি ও চর মুন্সিসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বসতি রয়েছে। তবে এসব এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়নি। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় অসুস্থ হলে অনেককে স্থানীয় ফার্মেসি বা অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে হয়।
জটিল রোগী কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে আগে মাছ ধরার ট্রলারসহ স্থানীয় নৌযান ব্যবহার করে রোগীদের উপজেলা সদর বা ভোলা শহরে নিতে হতো। এতে সময় যেমন বেশি লাগত, তেমনি জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকিও থাকত।
স্থানীয়রা জানান, মদনপুরের মানুষের জন্য সরকারি উদ্যোগে আগে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেটি অচল পড়ে আছে। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনে সরকারি ব্যবস্থার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের জন্য দেওয়া আরও কয়েকটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে।
এ অবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগে নতুন নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুতর অসুস্থ রোগী, প্রসূতি নারী ও শিশুদের দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া যাবে।
উদ্বোধনকালে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট বলেন, মদনপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করেই ব্যক্তি উদ্যোগে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীবেষ্টিত এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য জরুরি রোগী পরিবহনে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে এটি সহায়ক হবে।
মদনপুরের বাসিন্দা আব্দুল খালেক, রহিম মাঝি ও গফুর মিয়া বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় জরুরি সময়ে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তারা। তবে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য শুধু নৌ-অ্যাম্বুলেন্সই যথেষ্ট নয়। ইউনিয়নে স্থায়ী ও মানসম্মত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন অচল থাকা সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটিও দ্রুত সচল করার দাবি জানান তারা।
