সর্বশেষঃ

ভোলার মেঘনায় জেলের জালে ২৪ কেজির ব্ল্যাককার্প, নিলামে বিক্রি ১৭ হাজার ৫০০ টাকায়

ভোলার মেঘনা নদীতে জেলে সুলতান সরদারের জালে ধরা পড়েছে ২৪ কেজি ওজনের একটি বড় আকারের ব্ল্যাককার্প। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাছটি সদর উপজেলার তালতলী (ইলিশা) মাছঘাটে আনা হলে একনজর দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ ও লঞ্চঘাটের যাত্রীরা। পরে নিলামে মাছটি ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

মাছঘাট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জোয়ারের সময় মেঘনা নদীতে জাল ফেলেন সদর উপজেলার জেলে সুলতান সরদার। জাল তোলার সময় বড় আকৃতির মাছটি উঠে আসে। পরে মাছটি তালতলীর ফকির দালালের আড়তে নেওয়া হয়। সেখানে আড়তদার ও স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে দর-কষাকষির পর ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি বিক্রি হয়। পরে ১৮ জন মিলে মাছটি ভাগ করে নেন।

আড়তদার লোকমান বলেন, কয়েক দিন ধরে নদীতে ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এতে ইলিশের দামও কিছুটা কমেছে। ইলিশের সরবরাহ কম থাকলে ব্ল্যাককার্পটির দাম আরও বেশি হতে পারত।

মাছটি ধরার পর জেলেদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। নৌকায় থাকা জেলেরা জানান, এত বড় ব্ল্যাককার্প তাঁরা আগে খুব একটা দেখেননি।

তবে বড় মাছ পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি জেলে পরিবারের আর্থিক সংকটও সামনে এসেছে। সুলতান সরদারের স্ত্রী মরণজান বিবি মুঠোফোনে বলেন, তাঁদের পরিবার নৌকাতেই বসবাস করে। দীর্ঘদিন পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ থাকায় টানা দুই দিন নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। শুক্রবার ভোরে আবার নদীতে নামেন তাঁরা।

মরণজান বিবি বলেন, সুতার জালে ২৪ কেজির মাছটি ধরা পড়ে। এ ছাড়া তাঁরা মাত্র দুটি জাটকা ও একটি বেলকা ইলিশ পেয়েছেন। মাছ ধরতে গিয়ে প্রায় ২০ লিটার জ্বালানি তেল খরচ হয়েছে। বড় মাছটি পাওয়ায় অন্তত কিছুটা খরচ মেটানোর আশা করছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। খুব কষ্টে দিন কাটাই। আমাদের কাছে এলে বুঝতে পারবেন, আমরা কীভাবে থাকি, কীভাবে জীবন চালাই।”

মাছটি কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান মরণজান। বিক্রির সময় তিনি নৌকাতেই ছিলেন।

ভোলা সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, ছবিটি দেখে মাছটিকে ব্ল্যাককার্প বলেই মনে হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের দেশীয় মাছ নয়। পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে চীন অঞ্চলের স্বাদুপানির কার্পজাতীয় এই মাছের প্রধান খাদ্য শামুক ও ঝিনুক। বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে পুকুরে এর চাষ করা হয়।

তিনি বলেন, নদীতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য ও অনুকূল পরিবেশ পেলে ব্ল্যাককার্প দ্রুত বড় হতে পারে। এ ধরনের মাছ ৩০ কেজি বা তারও বেশি ওজনের হতে পারে। পুকুরে সাধারণত ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের ব্ল্যাককার্প বেশি দেখা যায়।

মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্ষা বা বন্যার সময় চাষের পুকুর থেকে এ ধরনের মাছ নদীতে চলে যেতে পারে। সেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকতে পারলে এটি বড় আকার ধারণ করতে পারে। ভোলার মেঘনায় ধরা পড়া ২৪ কেজির মাছটিও এমনভাবে নদীতে আসা মাছ হতে পারে।

একটি বড় মাছ জেলের জালে ধরা পড়লেও সুলতান সরদারের পরিবারের কথা বলছে ভিন্ন বাস্তবতার। দিনের পর দিন মাছ কম পাওয়া, জ্বালানি ও চিকিৎসার খরচ এবং নৌকায় বসবাস—সব মিলিয়ে নদীনির্ভর এই পরিবারের জীবনে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।