চরফ্যাশন-মনপুরা স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

আমজাদ হোসেন ॥
ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া স্লুইচঘাট থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা রুটে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে এ রুটে যাত্রীপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ভোলার মনপুরার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌপথই এখানকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট থেকে মনপুরায় ট্রলারযোগে দুইবার যাত্রী পারাপার করা হয়। তবে দিনের অন্যান্য সময়ে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের নির্ভর করতে হয় স্পিডবোটের ওপর। আর এই সুযোগে স্পিডবোট মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, মনপুরার জনতাবাজার ঘাট থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া সুইচঘাটে স্পিডবোটে যেতে সময় লাগে মাত্র ১৮ থেকে ২০ মিনিট। অথচ এ স্বল্প দূরত্বের জন্য বর্তমানে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ভাড়া ২৫০ টাকা থাকলেও সম্প্রতি তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে।
যাত্রীরা তুলনা করে বলেন, ভোলা-ভেদুরিয়া থেকে লাহারহাট যেতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে, সেখানে ভাড়া ১৭০ টাকা। আবার ভেদুরিয়া থেকে বরিশাল যেতে ৫০ থেকে ৫৫ মিনিট সময় লাগলেও ভাড়া ৩৩০ টাকা। অথচ চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট থেকে মনপুরা জনতাবাজার যেতে মাত্র ১৮-২০ মিনিটের যাত্রায় ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত।
এদিকে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে স্পিডবোট মালিক ও চালকদের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও হয়রানির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন যাত্রী। তাদের দাবি, এই রুটে যাত্রীদের সুবিধা ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় সরকারিভাবে একটি নির্ধারিত ভাড়া চালু করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সহকারী পরিচালক পুতুল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, শিগগিরই বেতুয়া স্লুইচঘাট থেকে মনপুরা জনতাবাজার রুটের স্পিডবোট মালিকদের সঙ্গে বসে ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাত্রীদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকে-এমন একটি ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
চরফ্যাশন-মনপুরার যাত্রীদের প্রত্যাশা, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এ রুটে একটি যৌক্তিক ও নির্ধারিত ভাড়া চালু করা হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
