মনপুরায় মসজিদের উন্নয়নকাজের হিসাব নিয়ে কথা বলায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
মনপুরায় মসজিদের উন্নয়নকাজের হিসাব নিয়ে কথা বলায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

ভোলার মনপুরায় মসজিদের উন্নয়নকাজের হিসাব নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আব্দুজ জাহের নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর দুই ছেলেকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষকসমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাঁ কোড়ালিয়া বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়নকাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও ব্যয় বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে মসজিদে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
একপর্যায়ে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও ৪১ নম্বর দক্ষিণ রহমানপুর (১৫০০) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুজ জাহের বিল্লাল হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন, কাজ নিয়ে যদি তাঁর আপত্তি থাকে, তাহলে তিনি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করতে পারতেন। এ কথা নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহের মাস্টারকে অপমানজনক কথা বলা হলে তাঁর দুই ছেলে সুমন ও নুর হোসেন এর প্রতিবাদ করেন।
শিক্ষক আব্দুজ জাহেরের অভিযোগ, এরপর বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার, সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন তাঁর ও তাঁর ছেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় তিনি রক্তাক্ত আহত হন। এ সময় তাঁর পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুজ জাহের বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। এর উন্নয়নকাজে অংশ নেওয়া সবার দায়িত্ব। আমার ছেলে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই দুই দিন মসজিদের কাজে শ্রম দিয়েছে। মসজিদের খরচ নিয়ে বিল্লাল প্রশ্ন তুললে আমি শুধু বলেছি, তুমি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করলেই তো হতো। এ কথার জেরেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে এবং পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাঁর দুই ছেলে সুমন ও নুর হোসেনকেও মারধর করেন। একপর্যায়ে জুমার নামাজ শেষ না করেই তাঁকে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে হয়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, ‘কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাহের মাস্টারের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত ও অনুতপ্ত। জাহের মাস্টার আমাদের মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। এ ঘটনায় আমরা দুঃখিত।’
এদিকে বাবার ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর ছেলে রাসেল মাহামুদ ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি তাঁর বাবাকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন দাবি করে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এর বিচার দাবি করেন।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, একজন সহকারী শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাঁদের ওপর এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, একজন শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
