সর্বশেষঃ

যুব ঐক্য মানবতার সংস্থা’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

মানবতার সেবা, সামাজিক কল্যাণ এবং তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত বারু হাওলাদার কান্দি যুব ঐক্য মানবতার সংস্থার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ঢাকার মিরপুরে এক আন্তরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সংগঠনের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটি, উপদেষ্টামণ্ডলী, সাধারণ সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের দীর্ঘ পথচলা, বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্বচ্ছতা, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

 

সভায় বক্তারা বলেন, একটি সংগঠন শুধু একটি নাম, একটি কমিটি কিংবা কয়েকজন মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে না। পারস্পরিক বিশ্বাস, ত্যাগ, শ্রম, সময়, অর্থ, শৃঙ্খলা এবং মানবতার প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতাই একটি সংগঠনকে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর করে তোলে। সেই মূল্যবোধকে সামনে রেখে সংগঠনটিকে আরও শক্তিশালী ও মানুষের আস্থার ঠিকানা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

 

নতুন কমিটিতে নতুন উদ্দীপনা

 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রুহুল আমিন হাওলাদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন সংগঠনের নবগঠিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ হান্নান হাওলাদার। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা জনাব রাসেদুল ইসলাম মামুন হাওলাদার।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হান্নান হাওলাদার, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হেলাল হাওলাদার, সদস্য সচিব মাইদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন ওয়াজেদ, নির্বাহী সদস্য মোঃ দুলাল, সিনিয়র সদস্য মোঃ রহমান ওয়াজেদ, মোঃ নয়নবিন ছিদ্দিক, মোঃ ইলিয়াছ গোলদার, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ আবু তাহেরসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও অতিথিবৃন্দ।

 

এছাড়া ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি মোঃ নওয়াব মজুমদার, সিনিয়র উপদেষ্টা মোঃ সুমন ওয়াজেদ, সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমান সিনিয়র উপদেষ্টা মোঃ গিয়াসউদ্দীন মজুমদার, উপদেষ্টা মোঃ নাজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মোঃ দুলাল হাওলাদার, সহ-সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন বাবুল, অর্থ সম্পাদক মোঃ নিজাম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাসেল মজুমদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহাবুব এনাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ সবুজ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রাসেল বিজি, সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আজমীর হোসেন এবং তিনবারের নির্বাচিত তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তামজীদ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্য ও অতিথিবৃন্দ।

 

চাঁদা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব

 

মতবিনিময় সভায় সংগঠনের নিয়মিত মাসিক চাঁদা সংগ্রহ ও পরিশোধ, নতুন সদস্য ভর্তি, সদস্যদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

নতুন সদস্য ভর্তি কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা প্রদানের ক্ষেত্রে পেইড রিসিট প্রদান ও কনফার্মেশন মেসেজ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, সংগঠনের আর্থিক সক্ষমতা শুধু অর্থ সংগ্রহের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সদস্যদের দায়িত্ববোধ, আস্থা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাও জড়িত। তাই প্রত্যেক সদস্যকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সহযোগিতা করার পাশাপাশি সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

“ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, সম্মিলিত সমাজের স্বার্থই ছিল আমার কাছে বড়”—নওয়াব মজুমদার

সভায় ভার্চুয়াল বক্তব্যে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মোঃ নওয়াব মজুমদার আবেগঘন কণ্ঠে সংগঠনের দীর্ঘ পথচলা, নানা প্রতিকূলতা, ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “এই সংগঠনটি আমার কাছে শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার জীবনের অনেকটা সময়, শ্রম, অর্থ, ত্যাগ, ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১ মার্চ ২০২৩ সালে। শুরু থেকেই পথটি সবসময় সহজ ছিল না। কখনো পেয়েছি মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা, আবার কখনো নীরবতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও এগিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু মানবতার জন্য কিছু করার স্বপ্নটিকে কখনো হারিয়ে যেতে দিইনি।”

নওয়াব মজুমদার বলেন, “আমি সবসময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সম্মিলিত সমাজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছি। সংগঠনের কোনো পদ, পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত অর্জন আমার কাছে কখনো মুখ্য ছিল না; আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সংগঠনটি যেন টিকে থাকে, এগিয়ে যায় এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছি।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত ব্যস্ততা, প্রয়োজন ও সুযোগকে পাশে রেখে সংগঠনের প্রয়োজনকে সামনে রাখতে হয়েছে। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল—একটি ভালো উদ্যোগকে বাঁচিয়ে রাখা মানে শুধু একটি সংগঠনকে বাঁচিয়ে রাখা নয়; ভবিষ্যতে অনেক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখা।”

সংগঠনের কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “একটা সময় সংগঠনের অনেক সদস্য বিভিন্ন কারণে দূরে সরে গেছেন। অনেক সময় মনে হয়েছে পথটা হয়তো কঠিন। কেউ কেউ হয়তো হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে সংগঠনটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছি। কখনো অনেকের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে এগিয়েছি, আবার কখনো পাশে কাউকে না পেয়ে একাই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই মানবিক কাজের স্বপ্ন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিইনি।”

“হাল ছাড়িনি, কারণ বিশ্বাস ছিল—একদিন এই স্বপ্ন বাস্তব হবে”

আবেগঘন বক্তব্যে নওয়াব মজুমদার বলেন, “আমি জানতাম, হয়তো আজকের দিনে এর ফল পাওয়া যাবে না। হয়তো আমার শ্রমের মূল্যায়নও সবাই করবে না। তবুও কাজ করে গেছি। কারণ মানুষের জন্য করা কাজের সবচেয়ে বড় পুরস্কার মানুষের প্রশংসা নয়—মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।”

তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস ছিল, আমরা যদি আন্তরিকভাবে একটি ভালো উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে পারি, তাহলে একদিন না একদিন সেই উদ্যোগের সঙ্গে ভালো মানুষ, মানবিক মানুষ ও স্বপ্নবান তরুণরা যুক্ত হবেন। আজ যখন দেখি নতুন করে অনেক আগ্রহী, উৎসাহী ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবী মানুষ সংগঠনের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটি, উপদেষ্টামণ্ডলী ও সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, তখন মনে হয়—এতদিনের অপেক্ষা, শ্রম, সময়, অর্থ ও ত্যাগ বৃথা যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত বিজয় নয়; এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত স্বপ্নের একটি নতুন সূচনা।”

“একজন স্বপ্ন দেখতে পারেন, কিন্তু সবাই মিলে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে”

নওয়াব মজুমদার বলেন, “আমি চাই না এই সংগঠনের সফলতার কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তির নামে লেখা হোক। এই সংগঠন আমাদের সবার। যারা শুরু থেকে পাশে ছিলেন, যারা কঠিন সময়ে সহযোগিতা করেছেন, যারা নিজেদের ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দিয়েছেন এবং যারা আজ নতুন উদ্দীপনা নিয়ে যুক্ত হয়েছেন—সবার অবদানেই এই সংগঠন এগিয়ে যাবে।”

তিনি নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “পদকে সম্মানের বিষয় হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবেন। আমরা যেন কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ, মান-অভিমান কিংবা ছোটখাটো মতপার্থক্যের কারণে বৃহত্তর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হই। আমাদের সামনে একটি বড় স্বপ্ন রয়েছে—মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানো এবং তরুণ সমাজকে মানবিক ও ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা। এই স্বপ্ন কোনো একজনের নয়; এটি আমাদের সবার।”

তরুণ সমাজকে মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়

সভায় বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, ক্রীড়া, সামাজিক সেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ ও সহযোগিতা, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ক্রীড়া এবং তরুণদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

নতুন নেতৃত্বে নতুন আশার আলো

সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সদস্যদের আন্তরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বারু হাওলাদার কান্দি যুব ঐক্য মানবতার সংস্থা আগামী দিনে নিজ এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর পরিসরে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

সভা শেষে সকল সদস্য ও নেতৃবৃন্দ ঐক্য, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

যে স্বপ্নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে, সেই স্বপ্ন আজ নতুন মানুষ, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন উদ্দীপনায় নতুন পথের সন্ধান পাচ্ছে।

ত্যাগের দীর্ঘ পথচলা যেন আগামী দিনের আরও সুন্দর ও মানবিক ভবিষ্যতের ভিত্তি হয়ে ওঠে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। মানবতার জন্য ঐক্য, মানুষের জন্য ভালোবাসা—এই আদর্শকে ধারণ করে বারু হাওলাদার কান্দি যুব ঐক্য মানবতার সংস্থা আরও সুসংগঠিত, স্বচ্ছ ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বহুদূর এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।