সর্বশেষঃ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, ভোলা-ঢাকা নৌপথে সরকারি ফেরির যাত্রা শুরু

মাছ, ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য রাজধানীর বাজারে পাঠাতে সরাসরি ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানী থেকে ভোলায় পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যবস্থা আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য হবে বলে আশা করছেন তারা।

ভোলা স্বার্থ রক্ষা উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হাসিব রহমান বলেন, ভোলা-ঢাকা রুটে ফেরি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু হওয়াকে তিনি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে ভোলা-ঢাকা নৌপথে প্রায় তিন বছর আগে ব্যক্তি মালিকানায় যাত্রীবাহী ফেরি ‘কার্নিভাল ক্রুজ’ চালু হয়।

ভোলা স্বার্থ রক্ষা কমিটির নেতাদের অভিযোগ, ওই ফেরিতে বর্তমানে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গ্যাসের ট্যাংকার বহন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রতিদিন সেখানে প্রায় ১২টি গ্যাসবাহী গাড়ি পারাপার করা হয়। তবে বিআইডব্লিউটিসির ‘বেগম রোকেয়া’ ফেরিতে একসঙ্গে কমপক্ষে ২৫টি গাড়ি পরিবহনের সুযোগ থাকবে।

সরকারি ফেরি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর খবরে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালু হলে ভোলা থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন আরও সহজ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে।

এর আগে দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে প্রথম ফেরি সার্ভিস চালু হয়। বর্তমানে ওই রুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। সেই ইলিশা ঘাট থেকেই এবার পরীক্ষামূলকভাবে ফেরির নতুন গন্তব্য হয়েছে রাজধানী ঢাকা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষামূলক চলাচলে নৌপথের নাব্যতা, সময় ও ঘাট ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক হলে ভোলা-ঢাকা রুটে নিয়মিত সরকারি ফেরি সার্ভিস চালুর সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে। এতে দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে রাজধানীর পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—ইলিশা ঘাট থেকে শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, সরাসরি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ফেরি যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার ‘বেগম রোকেয়া’র পরীক্ষামূলক যাত্রার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।