সর্বশেষঃ

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় মেজর হাফিজ উদ্দিনসহ বড় তিন নাম

ভোলার বাণী ডেস্ক ॥
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলা জোর আলোচনায় শেষ পর্যন্ত তিনজনের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। এই পদে বেশি উচ্চারিত তিন নাম হলো- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল দলীয় রাজনীতি নয়, দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্য, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানান মতামত থাকলেও শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যিনি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত হন।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ :
বাংলাদেশী সামরিক ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, ফুটবলার ও মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বাধীন আছেন। এরআগে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রী এবং খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি পরপর ৬ বার সহ ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ছিলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।। এরপর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অষ্টম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২২ মে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পাটমন্ত্রী, ২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত পানিসম্পদমন্ত্রী এবং পরে ২৪ এপ্রিল ২০০৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ১২ মার্চ ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হন। এছাড়া বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত হন। তাই বলা যায় মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।
অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান :
এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ, পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা করেছেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর :
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে বলছেন অনেকে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য। কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, আমার বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার কোনো অগ্রহণযোগ্য ব্যাড রেকর্ড নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রের প্রতি যার দায়বদ্ধতা থাকবে এবং যার মেরুদণ্ড হবে শক্ত। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভাকে অনেক সময় অভিভাবকশূন্য মনে হয়। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলে সরকার ও রাষ্ট্র-উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, যদি দলীয়ভাবে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, তাহলে এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যার একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। তবে দুই যুগ আগে সরকারে থাকাকালীন বিএনপি যাদের (বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ইয়াজউদ্দিন আহমদ) রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছিল, নতুন করে এমন কোনো ব্যক্তিত্বকে এ পদে নির্বাচন করা উচিত হবে না।

দলীয় সূত্র বলছে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠক করলেন। বৈঠকে দলের রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নের দায়িত্ব দলীয় প্রধানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে বৈঠক শেষে একথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে রাত আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সভা শুরু হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।