ভোলায় শহীদ আবদুর রহিমের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ
ভোলায় ধারাবাহিক বর্ষনে পানিতে ফসল নষ্ট, কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি

জেলায় ধারাবাহিক বর্ষণে জলাবদ্ধতায় সবজি ও আমনের বীজতলা পঁচে গিয়ে ভোলার হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে কৃষকের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এসব ক্ষেতখামার প্লাবিত হয়েছে বেশি । সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমন বীজতলা ও সবজি চাষিরা। সবজিক্ষেত ও খামার পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। এতে করে আমন মৌসুমে চারা সংকট এবং সবজির দাম বাড়ার আশঙ্কায় ক্ষতির পরিমান বেশি দেখা দিয়েছে।কৃষি বিভাগ জানায়, ১০ দিনে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা বর্ষণে উপজেলার পুকুর খাল-বিল জলাশয়গুলো বৃষ্টি ও নদীর জোয়ারের পানির প্রভাবে পূর্ণ হয়ে যায়।যার ফলে মৎস চাষীরাও অনেক ক্ষতির সমুঙ্খিন হয়েছে। মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এ সবজী ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৭০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা এবং ১২১০ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত ও খামার পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। এতে করে আমন মৌসুমে চারা সংকট এবং সবজির দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।যার ফলে এ সবজী ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আরও বিভিন্ন উপকূলীয় এবার টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ক্ষেতের সবজী জাতীয় ফসল ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে এবং রোদ উঠলে আমন বীজতলার ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা। কৃষকরা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়। আমনের চারা শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পযর্ন্ত রোপণ করা হয়। এবার তারা সময়মতো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নদ-নদীতেও পানি বেড়েছে। ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব বীজতলা পানির নিচে। জলাবদ্ধতার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনেক এলাকায় বীজতলা পুরোপরি পানির নিচে আছে। কৃষক মালেক, কালাম সহ অনেকেই জানান, ঘন ঘন বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে গেছে। সবগুলো চারা নষ্টের উপক্রম। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য বেশি দামে বীজ কেনা লেগেছে। এতে আমন চাষ প্রায় ২০ দিন পিছিয়ে যাবে। আষাঢ়ের ২৫ তারিখ পর্যন্ত টানা বৃষ্টির কারণে শ্রাবণের ৫ তারিখে বীজতলা তৈরীর জন্য জমি প্রস্তুত করছি। এখন দেরি হওয়ায় আমাদের অন্যান্য ফসল আসতেও দেরি হবে, যে কারণে ফসল উৎপাদনও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সবজি চাষিদের মাঠের ফসল রক্ষায় দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বর্ষাকালীন সবজি মাঠের কেইল বা আইল মাটি দিয়ে তৈরি করে ১ ফিট উঁচু করলে ফসল রক্ষা পাবে। কৃষকদের বন্যা পরবর্তী দ্রুত পানি অপসারণসহ প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। চলতি মাসের অস্বাভাবিক অতিবৃষ্টিতে ভোলার বিস্তীর্ণ রবিশস্যের মাঠ তলিয়ে গিয়েও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার ২৩ হাজার কৃষক। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে ক্ষেতে পানি জমে তিন ভাগের দুই ভাগ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।সরকারি সহায়তা না পেলে সামনে আর আবাদ করতে পারব কি না জানি না। ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে,ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বীজতলা, শাক সবজি অধিকাংশ গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে।এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন যার পরিমান কয়েক কোটি টাকা ।সেক্ষেত্রে বীজতলাসহ শাক সবজি অনেক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি দফতর থেকে কৃষকদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে যাতে কৃষকরা দ্রুত পানি নামার ব্যবস্থা করে এবং যাদের বীজতলা নষ্ট হয়েছে তাদের আমন বীজতলা তৈরিতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সহায়তায় সরজমিন পরিদর্শন করে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
