সর্বশেষঃ

ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন, ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
একদিকে গরম আর অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের তামাশায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ভোলাবাসী। কারণে-অকারণে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকা ও ওজোপাডিকো’র খামখেয়ালিপনা এবং জবাবদিহি না থাকায় দিনে দিনে বিদ্যুতের চরম অব্যবস্থপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে বলছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ না থাকলেও রয়েছে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিল। প্রচন্ড গরমের মধ্যেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে চলে সংরক্ষণ ও নানা মেরামতের কাজের অযুহাত। নোটিশ দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখলেও প্রতিনিয়ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ফুসে উঠছে গ্রাহকরা ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভোলার বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী মিল-কারখানায় উৎপাদনে নেমে এসেছে ধ্বস। এ দায় কার ?
জেলায় চাহিদার চেয়ে কয়েকগুন বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। দিনে ও রাতে বিদ্যুতের এমন অবস্থায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার মালিকরা।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবং বিসিক শিল্প নগরীর খাঁন ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক জামাল খাঁন বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতর তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে, যার ফলে আমাদের উৎপাদন বিঘ্ন হচ্ছে। ভোলার ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী জহির ও মিজান বলেন, আমাদের ব্যবসা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক লোডশেডিং। যার ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুস্কর হয়ে পড়েছে।
অভিযানের নামে কোন নোটিশ প্রদান ছাড়াই আবাসিক গ্রাহকদের বাণিজ্যিক হারে বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ গ্রাহক প্রতি মাসে বিল পরিশোধ করে আসছে। নোটিশ ছাড়াই কেটে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এমন হাজারো অভিযোগের মধ্যেও বিদ্যুৎ বিলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে ওজোপাডিকো’র কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলার মধ্যে ৬ উপজেলায় ৫ লাখের অধিক গ্রাহক ওজোপাপিকো ও পল্লি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এ জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ওজোপাডিকোর ২২-৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লিবিদ্যুতের ৭০-৯০ মেগাওয়াট। এ চাহিদার বিপরীতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে উৎপাদন হচ্ছে ২২৫ মেগাওয়াট। যা জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই গ্রীড থেকে পুনরায় ভোলায় সরবরাহ হচ্ছে।


পল্লী বিদ্যুতের সমিতির আওতায় পুরো জেলায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহক থাকলেও চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। জাতীয় গ্রীড থেকে পর্যপ্ত সরবরাহ না হওয়ার ফলে বাধ্য হয়েই কয়েক ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম শাহ মোঃ রাজ্জাকুর রহমান বলেন, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম পেলে আমাদের বাধ্য হয়ে লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী চরফ্যাশন লোডশেডিং। এদিকে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ভোলাবাসী।
জানা গেছে, গত এক মাসের বেশী সময় ধরে কখনও ৩৪ ডিগ্রী কখনও বা ৩৫ ডিগ্রী তাপমাত্রা উঠা নামা করায় প্রচন্ড তাপদাহ বিরাজ করছে উপকূলীয় জেলায় ভোলায়। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এরমধ্যে আবার বিদ্যুতের লোডশেডিংয় ভোগান্তির মাত্রা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট বড় ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, চরম দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষগুলো। বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরাও।
ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) কোম্পানি লিমিটেড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইউসুফ দায়সারা বক্তব্য দিয়ে বলেন, আমাদের পিকআওয়ারে চাহিদা ৩০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ১৭-১৮ মেগাওয়াট, যার ফলে গড়ে ৩/৪ ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।