লালমোহনে বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
বাহারি আমে ভরে উঠেছে ভোলার বাগান, লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা

হারুন অর রশীদ ॥
ভোলার বিভিন্ন উপজেলার আম বাগানে এখন বইছে পাকা আমের মৌ মৌ সুবাস। গাছে গাছে ঝুলছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের বাহারি আম। অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম থাকায় এ বছর জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে খুশি বাগান মালিক, খামারি ও কৃষকরা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভালো দামের আশায় এখন আম সংগ্রহ ও বাজারজাতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ভোলা জেলায় ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন। বাজারে দাম ভালো থাকলে এবার আম চাষে কৃষকেরা লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
জেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আম। কোথাও লাল আভা, কোথাও সোনালি হলুদ রঙের আম আকৃষ্ট করছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বাগান পরিচর্যা, আগাছা দমন, আম সংগ্রহ ও প্যাকেজিংয়ের কাজ।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ‘সোনার বাংলা কৃষি খামার’-এ গিয়ে দেখা যায়, বাগানটিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ গাছের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ গাছে আম ধরেছে। খামারের পরিচালক মঞ্জুর আলম নিরব জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ লাখ টাকার আম বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
স্থানীয় আমচাষি মো. বাবু বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন খরচও কমেছে। ফলে লাভের সম্ভাবনা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও ভোলার আম পাঠানো হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন বাগানে এবার বারি-৪, বারি-৫, বেনানা, রূপালি, হাড়িভাঙা, রেড আই ও পালমারসহ নানা জাতের আমের উল্লেখযোগ্য ফলন হয়েছে। সারি সারি আমগাছের নিচ দিয়ে হাঁটলেই নাকে এসে লাগে পাকা আমের মিষ্টি সুবাস। একাধিক আমচাষি জানান, কোরবানির ঈদের আগে বাজারে আমের চাহিদা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। সে কারণে এখন শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বাজারজাত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ভোলার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে জেলায় প্রতিবছর নতুন নতুন আম বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

ভোলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. বাহাউদ্দিন সেক বলেন, ভোলায় আম চাষের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।
