ঝড় বৃষ্টিতে পোলাইনডিরে কোলোর মইধ্যে কইরা কত রাইত কানছি আল্লায় আমার কান্দন কবুল করছে

“আল্লাহ আমনেগোরে রহমত দিছে হেইয়ার লইগ্যা ঘর পাইছি। কেনো সময় ভাঙ্গা ঘর পাকা অইবো চিন্তার করি নাই । কত বছর কষ্ট করে রাইত কাডাইছি আর কানছি। পোলাইনডিরে বান তুফানের কোলে লইয়া বইয়া থাকতাম কত কষ্ঠ আছিলো আমাগো। আল্লায় আশা পুরাইছে।”

এভাবেই নিজের জীবনের কষ্টের কথা বলছিলেন জলবায়ু সহিষ্ণু ঘর পাওয়া ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্ত মুন্সি গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিউটি বেগম।

বিউটি বেগমের স্বামী সফিকুল ইসলাম। এক মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাদের সংসার। জলবায়ু সহিষ্ণু পাকা ঘর পাওয়ার পর এখন তাদের জীবনে এসেছে নতুন স্বপ্ন। ছেলে-মেয়েরা স্কুল ও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। সংসারে ফিরেছে স্বস্তি ও নিরাপত্তা।

বিউটি বেগমের স্বামী সফিকুল ইসলাম বলেন,
“যা কিছু পেয়েছি, সব আল্লাহর দান। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।”

বর্তমানে সফিকুল ও বিউটি বেগম নিজেদের তিনটি গরুর পাশাপাশি আরও দুটি বর্গা গরু লালন-পালন করছেন। তাদের স্বপ্ন—ভবিষ্যতে একটি বড় খামার গড়ে তোলা।

তবে কষ্টও আছে তাদের জীবনে। কয়েক মাস আগে বিউটি বেগমের দুটি গরু মারা যায়, সেই বেদনা এখনও তার হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। জীবিকা টিকিয়ে রাখতে তিনি ইতোমধ্যে জিজেইউএস থেকে ঋণ নিয়ে নতুন গরু কিনেছেন। পাশাপাশি ছাগলও পালন করছেন।

পল্লি কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) বিউটি বেগমের পরিবারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি দুর্যোগ সহনশীল পাকা ঘর প্রদান করে।
এই ঘরের সঙ্গে আরও রয়েছে—সোলার সিস্টেম, বন্ধু চুলা, ছাগল পালনের জন্য মাচা, পাকা ল্যাট্রিন এবং লবণসহিষ্ণু বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি বিউটি বেগম হোগলা পাতার রশি বুনছেন। তার আশা, আরও কিছু সহায়তা পেলে হাঁস-মুরগির খামারের পাশাপাশি একটি বড় গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলবেন। এতে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে নিজের আয় দিয়েই বাকি জীবনের সংসার সুন্দরভাবে চালিয়ে নিতে পারবেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।