উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে বরিশালে জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মো: সামিরুজ্জামান ॥ উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হওয়া, এর উন্নয়নের সম্ভাবনা ও সমাধান নিয়ে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে “জাতীয় কর্মশালা-২০২৫”। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং এবং গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাফেলো সোসাইটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তালহা তালুকদার বাঁধন। গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস), বাংলাদেশ ব্যাফেলো অ্যাসোসিয়েশন এবং দ্য কোস্টাল ভেট সোসাইটি, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি দিন দিন কমে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, ভূমি দখল এবং কৃষিজমির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মহিষ পালনের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এই অঞ্চলে দুধ, মাংস এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াতে মহিষ খামার ও টেকসই চারণভূমি উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদি চারণভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মহিষ খাত নতুন করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দুয়ার খুলতে পারে।

কর্মশালায় গবেষক, পশুচিকিৎসক, খামারি ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে মহিষ পালন ও উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখায় গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিনসহ ৪ জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।